![]() |
| ছবি: সংগৃহীত |
রুপা আক্তার উপজেলার গোহালা ইউনিয়নের বামনডাঙ্গা গ্রামের আয়েশা সিদ্দিকা মহিলা হাফেজিয়া মাদ্রাসার পঞ্চম জামাতের শিক্ষার্থী ছিলেন।
পরিবারের অভিযোগ, গত ২৬ নভেম্বর মাদ্রাসা ছুটির পরে জামায়াতে ইসলামীর স্হানীয় নেতা শিক্ষক মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান শিকদার (৫১) রুপাকে একা পেয়ে ধর্ষণ করেন। এ সময় মাদ্রাসার আরেক শিক্ষিকা খাদিজা বেগম (৩০) ভিডিও ধারণে সহযোগিতা করেন।
ঘটনার পর রুপা বাড়িতে এসে কান্নাজড়িত কণ্ঠে পুরো বিষয়টি মা-বোনকে জানায়।
নিহতের মা বেবী বেগম জানান,
“লোকলজ্জার ভয়ে আমরা বিষয়টি চেপে রেখেছিলাম। মেয়েও আর মাদ্রাসায় যেতে চাইত না।”
কিন্তু এখানেই শেষ হয়নি চাপ। শিক্ষিকা খাদিজা ভিডিও দেখিয়ে রুপাকে বারবার মাদ্রাসায় ডাকতে শুরু করেন। কোনো কোনো সময় মাদ্রাসার ছাত্রীদের দিয়েও রুপাকে ডেকে পাঠানো হতো।
পরিবারের দাবি—শিক্ষক মাহমুদুল শিক্ষক খাদিজার মাধ্যমে রুপাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন, যা রুপা ও তার পরিবার কোনোভাবেই মেনে নিতে পারেনি। এতে রুপার মানসিক চাপ আরও বাড়তে থাকে।
বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) সকালে বাড়ির সবার অগোচরে নিজ ঘরে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে রুপা। পরিবারের চিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করলেও তখন আর বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
রুপার আত্মহত্যার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়।
অভিযুক্ত জামায়াত নেতা শিক্ষক মাহমুদুল হাসানকে বৃহস্পতিবার বিকেলে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী আটক করে গণধোলাই দেয়। পরে তাকে গুরুতর অবস্থায় মাদারীপুরের রাজৈর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
একই সময় শিক্ষিকা খাদিজাও গ্রেপ্তারের ভয়ে স্থানীয়ভাবে আত্মগোপনে ছিলেন। শুক্রবার সকালেই পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যায়।
পুলিশ পরে অসুস্থ শিক্ষক মাহমুদুলকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাজৈর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে হস্তান্তর করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মুকসুদপুর থানায় নিয়ে আসে।
নিহতের বড় বোন সাদিয়া আক্তার বলেন—
“আমার বোনকে ভিডিও দেখিয়ে হুমকি দিতো। বিভিন্ন ছাত্রীর মাধ্যমে ডেকে পাঠাতো। বিয়ে না করলে ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখাতো। এসব সহ্য করতে না পেরে রুপা আত্মহত্যা করে। আমরা দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।”
মুকসুদপুর থানার ওসি মোস্তফা কামাল বলেন—
“ধর্ষণ এবং আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে দুটি ধারায় মামলা নেওয়া হয়েছে। শিক্ষক মাহমুদুল হাসান ও শিক্ষিকা খাদিজা বেগম দুজনকেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রুপার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।”
আসামিদের পরিচয়-
জামায়াত নেতা- মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান শিকদার, পিতা—আব্দুল হামিদ শিকদার, গ্রাম—বারাশিয়া, চিতলমারী, বাগেরহাট
খাদিজা বেগম, পিতা—ফজলু খালাসী, গ্রাম—বামনডাঙ্গা, মুকসুদপুর, গোপালগঞ্জ
ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোক ও ক্ষোভ নেমে এসেছে। স্থানীয়রা বলছেন—এ ধরনের ন্যক্কারজনক ঘটনা মাদ্রাসার সুনাম নষ্ট করেছে এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিও জানিয়েছেন তারা।
