মৌলভীবাজারে মানবতার অনন্য দৃষ্টান্ত, একই মঞ্চে দুই পিতৃহীন কনের রাজকীয় বিয়ে

ভিক্টরি টাইমস ৭১

ছবি: সংগৃহীত 
নিজস্ব প্রতিবেদন, মৌলভীবাজার: বিয়ের সানাই বাজছে, চারদিকে উৎসবমুখর পরিবেশ। আলোয় ঝলমল করছে পুরো কমিউনিটি সেন্টার। লাল বেনারসি আর গয়নায় সেজে একই মঞ্চে বসে আছেন দুই কনে। তাদের জীবনসঙ্গী করে নিতে ফুলের মালায় সজ্জিত দুটি গাড়িতে চড়ে এলেন দুই বর। দাওয়াত খেতে এসেছেন প্রায় ৩০০ অতিথি। সবার জন্য আয়োজন করা হয়েছে সুস্বাদু খাবার ও পানীয়ের।


বাইরে থেকে দেখলে মনে হবে কোনো উচ্চবিত্ত পরিবারের জমকালো আয়োজন। কিন্তু এই রাজকীয় আয়োজনের পেছনের গল্পটি অন্যরকম—যা একই সাথে অত্যন্ত আবেগপূর্ণ এবং মানবতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত।


"আমাদের বাবা নেই। এই অসচ্ছল পরিবারের পাশে যারা আজ দাঁড়িয়েছেন, তারা মহৎ হৃদয়ের মানুষ। নতুন জীবনসঙ্গীকে নিয়ে যেন বাকিটা জীবন সুখে-শান্তিতে কাটাতে পারি, সবার কাছে সেই দোয়া চাই।"

 — অশ্রুসিক্ত চোখে কথাগুলো বলছিলেন নববধূ মদিনা ও রাজনা।


মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার সারমপুর গ্রামের মদিনা বেগম এবং মহলাল এলাকার রাজনা বেগম—উভয়ই পিতৃহীন। পরিবারের তীব্র সাধ থাকলেও, সাধ্য ছিল না ধুমধাম করে বিয়ে দেওয়ার। যেখানে দুমুঠো ভাত জোগাড় করাই কষ্টসাধ্য, সেখানে বিয়ের এত বড় আয়োজন ছিল তাদের কাছে এক অলীক স্বপ্ন।


কিন্তু সেই স্বপ্নকেই বাস্তবে রূপ দিল ‘ছায়া রাজনগর সামাজিক সংগঠন’। দেশে ও প্রবাসে থাকা বাংলাদেশিদের উদ্যোগে গঠিত এই সংগঠনটি অসহায় দুই কনের পাশে এসে দাঁড়ায়। বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজনগরের হরিপাশা এলাকার জান্নাত কমিউনিটি সেন্টারে সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে এই দুই তরুণীর রাজকীয় বিয়ের আয়োজন করে তারা।


অনুষ্ঠানে শুধু ধুমধাম করে খাইয়েই দায়িত্ব শেষ করেনি সংগঠনটি। নতুন দম্পতিরা যাতে সুন্দরভাবে সংসার শুরু করতে পারেন, সেজন্য ছায়া রাজনগর সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে বরদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে বিভিন্ন ধরনের আসবাবপত্রসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী।


সংগঠনের দুই প্রধান উদ্যোক্তা জয়নাল খান ও রুজনা বেগম জানান, তারা সব সময়ই অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন। তবে দুই পিতৃহীন মেয়ের মুখে হাসি ফোটাতে পেরে এবং তাদের ধুমধামে বিয়ে দিতে পেরে সংগঠনের সবাই আজ ভীষণ আনন্দিত।


সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে যখন মালাবদল হলো, তখন এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। বাবার অনুপস্থিতি ভুলে সমাজের একঝাঁক মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে, স্বজনদের চোখের জলে বিদায় নিলেন মদিনা ও রাজনা।


অভাবের কালো মেঘ কাটিয়ে দুই তরুণী পা রাখলেন নতুন সংসারে। স্বজন ও এলাকাবাসীর এখন একটাই প্রার্থনা—নতুন পরিবারে মদিনা আর রাজনা যেন আজীবন এমন সুখ আর হাসিতেই বেঁচে থাকেন।

 

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Check Out
Ok, Go it!
To Top