![]() |
| ছবি: সংগৃহীত |
২০২৫ সালের ১২ জুন সকালে প্রাইভেট পড়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয় ১৫ বছর বয়সী আনজুম। নিখোঁজের দুই দিন পর ১৪ জুন বাড়ির পাশের একটি ছড়া থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে কুলাউড়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ জানায়, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত চালিয়ে প্রতিবেশী মো. জুনেল মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্তে উঠে আসে, দীর্ঘদিন ধরে আনজুমকে উত্ত্যক্ত ও কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিল জুনেল। ঘটনার দিন আনজুম তার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ গোপন করার উদ্দেশ্যে নির্জন স্থানে ফেলে রাখা হয়।
পুলিশের দাবি, আসামির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী হত্যাকাণ্ড-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। পরে আদালতের নির্দেশে রিমান্ডে নিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়।
তবে ঘটনার এক বছর পার হলেও মামলার বিচারিক কার্যক্রম শেষ হয়নি। এতে হতাশা প্রকাশ করে নিহত আনজুমের পরিবারের সদস্যরা বলেন, দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির প্রত্যাশা নিয়ে তারা দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষা করছেন। তাদের অভিযোগ, বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতায় তারা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন।
এদিকে হত্যাকাণ্ডের এক বছর পূর্তিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে আনজুমকে স্মরণ করা হচ্ছে। স্থানীয় সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে মামলার নিষ্পত্তি এবং দোষীর সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, একটি মেধাবী শিক্ষার্থীর জীবন কেড়ে নেওয়ার মতো ঘটনায় দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা হলে সমাজে ইতিবাচক বার্তা যাবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ কমাতে তা কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
এক বছর পরও বিচার শেষ না হওয়ায় কুলাউড়াবাসীর প্রশ্ন—আনজুম হত্যার ন্যায়বিচার কবে মিলবে?
