![]() |
| পলাতক শিক্ষক: কায়সারুজ্জামান |
স্থানীয় ও নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, বিবাহিত এবং ঘরে স্ত্রী-সন্তান থাকা সত্ত্বেও অভিযুক্ত শিক্ষক কায়সারুজ্জামান দীর্ঘদিন ধরে উক্ত বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর সাথে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলেন এবং সর্বশেষ সুযোগ বুঝে তাকে নিয়ে পালিয়ে যান। তবে স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, এটি তার প্রথম বিতর্কিত বা অনৈতিক কর্মকাণ্ড নয়। এর আগেও বিভিন্ন সময়ে প্রতিষ্ঠানের একাধিক নারী শিক্ষার্থীর সাথে অনৈতিক আচরণ এবং যৌন হয়রানির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উঠেছিল তার বিরুদ্ধে। কিন্তু বারবারই তিনি পার পেয়ে গেছেন।
এলাকাবাসী ও ক্ষুব্ধ অভিভাবকদের অভিযোগ, ইতিপূর্বে কায়সারুজ্জামানের বিরুদ্ধে একাধিক যৌন হয়রানির অভিযোগ ওঠার পরেও প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক ফয়জুর রহমান ছরুক এবং সহকারী শিক্ষক সুহেল মিয়া কোনো দৃশ্যমান, কঠোর বা আইনানুগ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। বরং এক অদৃশ্য কারণে তারা পূর্বের ঘটনাগুলোকে ধামাচাপা দিয়ে রেখেছেন। প্রশাসনের নিকট অভিযোগ তুলে ধরে স্থানীয়রা জানান, এই দুই শিক্ষকের চরম অবহেলা, দায়িত্বহীনতা এবং পরোক্ষ প্রশ্রয়ের ফলেই আজ এমন একটি ন্যাক্কারজনক ও লজ্জাজনক ঘটনার জন্ম হয়েছে।
স্থানীয় এক অভিভাবকের ক্ষুব্ধ বক্তব্য আমরা শিক্ষকের কাছে আমাদের সন্তানদের নিরাপদ মনে করে পাঠাই। শিক্ষক যদি অভিভাবকের রূপ ছেড়ে এমন অপরাধী হয়ে ওঠে, তবে সমাজ যাবে কোথায়? পূর্বের অভিযোগগুলো যদি প্রধান শিক্ষক ও সংশ্লিষ্টরা অবহেলা না করে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতেন, তবে আজ এই স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানটিকে এমন কলঙ্কের মুখোমুখি হতে হতো না।"
মহতোছিন আলী উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজ কুলাউড়া অঞ্চলের একটি অত্যন্ত স্বনামধন্য ও সুপরিচিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এখানকার সিংহভাগ শিক্ষক-শিক্ষিকাই অত্যন্ত দক্ষ, মার্জিত এবং সমাজে অত্যন্ত সম্মানিত। কিন্তু কায়সারুজ্জামানের মতো একজন নৈতিকতাহীন ব্যক্তির এই অনৈতিক ও সমাজবিরোধী কর্মকাণ্ডের কারণে আজ পুরো প্রতিষ্ঠানের গৌরবময় ইতিহাস, সুনাম ও সম্মান বড় ধরনের প্রশ্নবিদ্ধের মুখে পড়েছে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়েও অভিভাবকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
এই ন্যক্কারজনক ঘটনার পর ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ও সচেতন সমাজ স্থানীয় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন। কোনো ধরনের political বা সামাজিক প্রভাবের আড়ালে যেন আসল সত্য ঢাকা পড়ে না যায়, সে বিষয়ে কড়া হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
এলাকাবাসীর পক্ষে প্রশাসনের কাছে প্রধান দাবিগুলো হলো— দ্রুততম সময়ের মধ্যে পলাতক অভিযুক্ত শিক্ষক কায়সারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা, ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করা এবং অতীতে যারা এই অপরাধীকে আড়াল করার চেষ্টা করেছেন বা দায়িত্বে অবহেলা করেছেন তাদের বিরুদ্ধেও তদন্ত সাপেক্ষে প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে সব ধরনের কলুষতা থেকে মুক্ত রাখতে এবং শিক্ষকতার পবিত্র মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখতে প্রশাসনের দ্রুত ও কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করছে সর্বস্তরের মানুষ।
