![]() |
| ছবি সংগৃহীত |
কোন মামলার রায়? কেন এত উত্তেজনা?
২০২৪ সালের মধ্যভাগে দেশজুড়ে ঘটে যাওয়া ছাত্র-নেতৃত্বাধীন আন্দোলনে সহিংসতা ঠেকাতে নিরাপত্তা বাহিনীকে কঠোর নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ ওঠে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে।
মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে এই অভিযোগ নিয়ে বিশেষ ট্রাইব্যুনালে তার অনুপস্থিতিতেই বিচার চলছে।
৭৮ বছর বয়সী হাসিনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। গত বছরের আগস্টে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তিনি ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্র জানায়।
দেশজুড়ে তার সমর্থক ও বিরোধী পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চরমে ওঠায় রায়ের দিনকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়েছে।
ঢাকায় নিরাপত্তা ‘রেড অ্যালার্ট’
রাজধানীজুড়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার বলেছেন—
> “অগ্নিসংযোগ, বিস্ফোরণ বা জননিরাপত্তা বিপন্নকারী কর্মকাণ্ডে জড়িত কাউকে দেখলে প্রয়োজনে গুলি চালানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছে।”
নিরাপত্তা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী—
গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনা
সচিবালয়
আদালত এলাকা
প্রধান প্রধান মোড়
বিভিন্ন মেট্রো রেলস্টেশন
বিশেষ নিরাপত্তায় ঘিরে রাখা হয়েছে।
রাতে টহল জোরদার করার পাশাপাশি ডগ স্কোয়াড ও বোম নিষ্ক্রিয়কারী দলগুলোও কাজ করছে।
একাধিক এলাকায় চেকপোস্টে যানবাহনে তল্লাশি চালানো হচ্ছে, ফলে সকাল থেকে রাজধানীতে ভয়াবহ যানজট সৃষ্টি হয়েছে।
রাস্তায় মানুষ কম, অস্বাভাবিক নীরব ঢাকা
এক অটোরিকশা চালক রমজান আলী পোর্টালকে বলেন—
“এমন নীরব ঢাকা অনেকদিন দেখিনি। লোকে বের হচ্ছে না। সকাল থেকে ঘুরে ঘুরে তিনশ টাকাও ওঠেনি।”
কর্মজীবী মানুষদের অনেকে কর্মস্থলে না গিয়ে ঘরে থাকছেন।
স্কুল–কলেজ এলাকায় অভিভাবকদের আগেভাগেই ছুটি ঘোষণা করতে দেখা গেছে।
সাধারণ মানুষ বলছেন তারা রায় না হওয়া পর্যন্ত বাইরে খুব বেশি না বেরোনোর চেষ্টা করছেন।
দেশজুড়ে বিস্ফোরণ ও নাশকতা বেড়েছে
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হিসাব অনুযায়ী, গত পাঁচ দিনে ঢাকা ও দেশের আরও কয়েকটি জেলায়
৩০টির বেশি ককটেল বিস্ফোরণ,
ডজনখানেক পরিবহনে অগ্নিসংযোগ,
একাধিক রাজপথে টায়ার জ্বালানো
ঘটনা ঘটেছে।
এসব ঘটনায় জড়িত অভিযোগে আওয়ামী লীগের অন্তত কয়েক ডজন কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বিরোধী দল দাবি করছে—এসব গ্রেপ্তার ‘পূর্বপরিকল্পিত’ এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
অন্যদিকে সরকারপক্ষ বলছে—
“আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গকারীদের দল–পরিচয় নয়, অপরাধের ভিত্তিতে আটক করা হয়েছে।”
গোপালগঞ্জ ও আশপাশে বিশেষ নজরদারি
শেখ হাসিনার পৈতৃক জেলা গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর ও ফরিদপুরে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসন আশঙ্কা করছে রায়কে কেন্দ্র করে ওই এলাকায় দলীয়সহিংসতা বাড়তে পারে।
গোপালগঞ্জের এক সরকারি কর্মকর্তা বলেন—
“আমরা চাই রায়ের দিনটি শান্তিপূর্ণভাবে কাটুক। তাই সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রস্তুত রাখা হয়েছে।”
রায় ঘোষণার আগে জনমনে তীব্র উৎকণ্ঠা
দেশের রাজনীতি এখন দুই ভাগে বিভক্ত—
একদল চায় হাসিনার কঠোর শাস্তি,
অন্যদল দাবি করছে ন্যায়বিচারের নাম করে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চলছে।
রায় ঘোষণার আগের দিনগুলোতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজবও ছড়িয়ে পড়ছে।
এ কারণে সরকার ডিজিটাল নিরাপত্তা কমান্ড সেন্টারকে সার্বক্ষণিক তদারকির নির্দেশ দিয়েছে।

