![]() |
| ছবি: সংগৃহীত |
ভুক্তভোগী ফ্রান্স প্রবাসী নাজিম উদ্দিন বড়লেখা উপজেলার পূর্ব-হাতলিয়া গ্রামের খলিলুর রহমানের ছেলে। তিনি প্রায় তিন বছর আগে পারিবারিকভাবে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বড়লেখা পৌরসভার হাটবন্দ এলাকার মৃত তছির আলীর মেয়ে তানজিলা আক্তার ছামিয়ার সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।
অভিযোগে জানা যায়, স্ত্রীকে বিদেশে নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে শ্বাশুড়ি আমিনা বেগম, খালা শ্বাশুড়ি তানিসা জান্নাত ইবা ও শ্যালক তামিম আহমদ নাজিম উদ্দিনের কাছ থেকে ভিসা ও আনুষঙ্গিক খরচ বাবদ প্রায় ২৭ লাখ টাকা নেন। পরে লন্ডন থেকে ফ্রান্সে নিতে আরও প্রায় আড়াই লাখ টাকা খরচ করেন নাজিম উদ্দিন। এতে তার মোট ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ২৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
ফ্রান্সে স্ত্রীকে নিয়ে কিছুদিন সংসার করার পর নাজিম উদ্দিন জানতে পারেন, তানজিলা আক্তার ছামিয়া ইতোমধ্যে তারেক আহমদ নামের আরেক প্রবাসীর স্ত্রী। অভিযোগ রয়েছে, আসামিদের প্ররোচনায় গোপনে ওই বিয়ে সম্পন্ন করা হয়। পরবর্তীতে তানজিলা ফ্রান্সে নাজিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করলে তাকে প্রায় ছয় মাস কারাভোগ করতে হয়। একপর্যায়ে তানজিলা পালিয়ে যান।
এ ঘটনায় নিঃস্ব হয়ে পড়া নাজিম উদ্দিনের মা রানিয়া বেগম টাকা ফেরত ও ন্যায়বিচারের দাবিতে শ্বাশুড়ি আমিনা বেগম, শ্যালক তামিম আহমদ ও খালা শ্বাশুড়ি তানিসা জান্নাত ইবা’র বিরুদ্ধে বড়লেখা সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য মৌলভীবাজার পিবিআইকে নির্দেশ দিয়েছেন।
বুধবার রাতে বড়লেখায় সংবাদ সম্মেলনে নাজিম উদ্দিনের পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেন, এটি শুধু আর্থিক প্রতারণা নয়, একটি পরিবারকে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করার গভীর ষড়যন্ত্র। তারা দ্রুত বিচার ও আত্মসাৎ করা অর্থ ফেরতের দাবি জানান।
এদিকে অভিযুক্ত আমিনা বেগম, তামিম আহমদ ও তানিসা জান্নাত ইবা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, নাজিম উদ্দিন তার স্ত্রীকে লন্ডনে পাঠানোর খরচ দিয়েছেন এবং পরে নিজেই ফ্রান্সে নিয়ে গেছেন। পরবর্তী ঘটনার দায় তাদের নয়। আদালতের রায়েই সবকিছু পরিষ্কার হবে বলে তারা মন্তব্য করেন।
মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইয়াছিন আলী জানান, আদালতের নির্দেশে পিবিআই মৌলভীবাজার মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম শুরু করবে।
