![]() |
| ছবি: সংগৃহীত |
রাজধানী তেহরানের পাশাপাশি কোম, ইসফাহান, বান্দার আব্বাস, মাশহাদ, ফারদিস ও বোজনুর্দসহ অন্তত ৩০টির বেশি শহরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। আন্দোলনকারীরা সরকারি স্থাপনা, রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ভবন ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় অগ্নিসংযোগ করেছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কোথাও কোথাও জাতীয় পতাকা ছিঁড়ে ফেলার ঘটনাও ঘটেছে।
এই পরিস্থিতিতে সরকার কঠোর অবস্থান নেওয়ার ঘোষণা দেয়। আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি বলেন, দেশের স্থিতিশীলতা বিনষ্ট করতে যারা সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে আর কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। একইসঙ্গে ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে জানায়, চলমান অস্থিরতা আর সহ্য করা হবে না।
এরপর বৃহস্পতিবার রাত থেকে বিক্ষোভ দমনে ব্যাপক অভিযান শুরু করে নিরাপত্তা বাহিনী। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রভাবশালী সাময়িকী টাইম ম্যাগাজিন-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুধুমাত্র রাজধানী তেহরানেই এক রাতে দুই শতাধিক বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নাম প্রকাশ না করার শর্তে তেহরানের এক চিকিৎসক জানান, শহরের অন্তত ছয়টি হাসপাতালে ২০৬ জন বিক্ষোভকারীর মৃত্যুর তথ্য নথিভুক্ত হয়েছে, যাদের অধিকাংশই গুলিবিদ্ধ ছিলেন। তিনি আরও জানান, উত্তর তেহরানের একটি পুলিশ স্টেশনের কাছে বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র থেকে গুলি চালানো হয়, যেখানে অন্তত ৩০ জন আহত হন। নিহতদের বড় অংশই তরুণ বলে দাবি করা হয়েছে।
তবে হতাহতের এই সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমটি।
এদিকে বিক্ষোভ চলাকালে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রাখার বিষয়টি স্বীকার করেছে ইরান সরকার। বিশ্লেষকদের মতে, তথ্যপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণ এবং আন্দোলন সংগঠনে বাধা দিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি কড়া ভাষায় বক্তব্য দিয়ে বলেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্র অসংখ্য মানুষের আত্মত্যাগের বিনিময়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং একে ধ্বংস করার যেকোনো চেষ্টার বিরুদ্ধে ইরান দৃঢ়ভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। তিনি আন্দোলনের পেছনে বিদেশি শক্তির প্ররোচনার অভিযোগও করেন।
এদিকে তেহরানের পাবলিক প্রসিকিউট সতর্ক করে বলেন, যারা নাশকতা বা নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়াবে, তাদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া হবে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন করে ইরান সরকারকে সতর্ক করে বলেন, বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালালে তার গুরুতর পরিণতি হতে পারে। তিনি বিক্ষোভকারীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
গত ২৮ ডিসেম্বর শুরু হওয়া এই আন্দোলন এখনো অব্যাহত রয়েছে। বৃহস্পতিবারের সহিংস ঘটনার পর শুক্রবার রাতেও তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেয়।
.webp)