![]() |
| ছবি: সংগৃহীত |
১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উদ্যোগ ও নেতৃত্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক হলে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের যাত্রা শুরু হয়। তৎকালীন তরুণ নেতা শেখ মুজিবুর রহমানের পৃষ্ঠপোষকতায় একঝাঁক মেধাবী ছাত্রনেতার হাতে গড়ে ওঠা সংগঠনটি পরবর্তীতে আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।
প্রতিষ্ঠার পর থেকে ভাষা আন্দোলন, ছয় দফা, গণঅভ্যুত্থান, মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীনতা পরবর্তী গণতান্ত্রিক আন্দোলনসহ প্রতিটি ঐতিহাসিক সংগ্রামে ছাত্রলীগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে বুকের তাজা রক্তের বিনিময়ে ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠা, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে সম্মুখসমরে অংশগ্রহণ—এসবই সংগঠনটির গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের অংশ।
তবে স্বাধীনতা–পরবর্তী সময়ে, বিশেষ করে বিগত ১৫ বছরের শাসনামলে সংগঠনটির কর্মকাণ্ড নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়। এসব অভিযোগের প্রেক্ষাপটে গত ২৩ অক্টোবর ২০২৪ অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বাংলাদেশ ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।
সেদিন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগকে ‘সন্ত্রাস বিরোধী আইন, ২০০৯’-এর আওতায় নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয় এবং আইনের তফসিল-২-এ সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ সত্তা হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, স্বাধীনতা-পরবর্তী বিভিন্ন সময়ে, বিশেষ করে বিগত ১৫ বছরের শাসনামলে ছাত্রলীগ হত্যা, নির্যাতন, গণরুমকেন্দ্রিক নিপীড়ন, ছাত্রাবাসে সিট বাণিজ্য, টেন্ডারবাজি, ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নসহ নানাবিধ জননিরাপত্তা বিঘ্নকারী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল। এসব বিষয়ে দেশের প্রধান গণমাধ্যমে প্রামাণ্য তথ্য প্রকাশিত হয়েছে এবং কিছু ঘটনায় সংগঠনটির নেতা-কর্মীদের অপরাধ আদালতেও প্রমাণিত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
এছাড়া প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, গত ১৫ জুলাই থেকে শুরু হওয়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও সাধারণ জনগণের ওপর সহিংস ও সশস্ত্র হামলা চালায়। এতে বহু শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ হতাহত হন। পাশাপাশি, ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরও সংগঠনটির বিরুদ্ধে রাষ্ট্রবিরোধী ও ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠে।
এর আগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক কমিটি ছাত্রলীগ নিষিদ্ধের দাবিতে সরকারকে সময়সীমা বেঁধে দিলেও তার আগেই ২৩ অক্টোবর ২০২৪ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।
একদিকে ঐতিহাসিক অবদান ও গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়, অন্যদিকে সাম্প্রতিক সহিংসতা ও বিতর্ক—সব মিলিয়ে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ইতিহাসে নিষিদ্ধ ঘোষণার এই অধ্যায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ও যুগান্তকারী বাঁক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
