ডিসেম্বর মাসে রপ্তানি কমেছে ১৪.২৫ শতাংশ, বাড়ছে দুশ্চিন্তা

ভিক্টরি টাইমস ৭১

ছবি: সংগৃহীত 
টানা পাঁচ মাস ধরে পণ্য রপ্তানি কমতে থাকায় দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের অন্যতম প্রধান খাত নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। সদ্য সমাপ্ত ডিসেম্বর মাসে রপ্তানি কমেছে ১৪ শতাংশ, যা গত দেড় বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পতন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতা, যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক এবং নীতিগত সহায়তার অভাব রপ্তানি খাতকে চাপে ফেলেছে।


জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে জানা গেছে, ডিসেম্বরে বাংলাদেশ থেকে ৩৯৭ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এই অঙ্ক ছিল ৪৬২ কোটি ডলার। তবে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) এখনো ডিসেম্বর মাসের চূড়ান্ত পরিসংখ্যান প্রকাশ করেনি।


এনবিআর সূত্র জানায়, কাস্টমস শুল্কায়ন শেষে প্রকৃত রপ্তানি, স্থানীয় রপ্তানি ও নমুনা রপ্তানির তথ্য তাদের ডেটাবেইসে অন্তর্ভুক্ত হয়। সেই হিসাব অনুযায়ী চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধে পণ্য রপ্তানি হয়েছে প্রায় ২ হাজার ৪০০ কোটি ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২ শতাংশ কম।


রপ্তানিকারকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পাল্টা শুল্কের কারণে বাংলাদেশি পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় ক্রয়াদেশ কমছে। একই সঙ্গে চীন ও ভারতের ওপর উচ্চহারে শুল্ক আরোপের ফলে ওই দেশগুলোর উদ্যোক্তারা ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে কম দামে পণ্য সরবরাহ করছেন। এতে বাংলাদেশের রপ্তানিকারকেরা তীব্র প্রতিযোগিতার মুখে পড়ছেন।


বাংলাদেশের মোট পণ্য রপ্তানির ৮০ শতাংশের বেশি আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। ফলে এই খাতে মন্দা দেখা দিলে সামগ্রিক রপ্তানিতেও তার প্রভাব পড়ে। গত আগস্ট থেকে নভেম্বর পর্যন্ত টানা চার মাস তৈরি পোশাক রপ্তানি কমেছে। ডিসেম্বরের তথ্য এখনো প্রকাশ না হওয়ায় প্রকৃত চিত্র জানা যায়নি।


নিট পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় প্রতিযোগী দেশগুলোর সরকার রপ্তানি খাত রক্ষায় নানা প্রণোদনা দিচ্ছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, ভারত সরকার মার্কিন পাল্টা শুল্কের প্রভাব মোকাবিলায় প্রায় সাড়ে চার হাজার কোটি রুপি সহায়তা ঘোষণা করেছে। অথচ বাংলাদেশে এলডিসি উত্তরণ ও আইএমএফের শর্তের কথা বলে বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধাও প্রত্যাহার করা হচ্ছে। এতে প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়ছে।


অন্যদিকে ব্যাংকিং খাত থেকে পর্যাপ্ত সহযোগিতা না পাওয়ায় অনেক রপ্তানিমুখী কারখানা সরাসরি রপ্তানি কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারছে না বলে অভিযোগ করেছেন উদ্যোক্তারা। নারায়ণগঞ্জের একটি তৈরি পোশাক কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফজলুল হক বলেন, প্রকৃত ব্যবসায়ীদের নীতির মধ্যে থেকে সহায়তা না দিলে আন্তর্জাতিক বাজারে দেশের ভাবমূর্তি ও ক্রেতাদের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।


রেমিট্যান্সে ইতিবাচক ধারা

রপ্তানিতে মন্দা থাকলেও প্রবাসী আয়ে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। ২০২৪–২৫ অর্থবছরে রেমিট্যান্স ২৭ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৩৩ কোটি ডলারে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে দেশে এসেছে ১ হাজার ৬২৬ কোটি ডলারের প্রবাসী আয়, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৮ শতাংশ বেশি।

অর্থনীতিবিদদের মতে, রেমিট্যান্সে এই প্রবৃদ্ধি স্বস্তির হলেও টেকসই অর্থনৈতিক ভারসাম্য রক্ষায় রপ্তানি খাতে দ্রুত নীতিগত সহায়তা ও কাঠামোগত সংস্কার জরুরি।

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Check Out
Ok, Go it!
To Top