সিলেটের কৃতি সন্তান এ. এইচ. মোফাজ্জল করিমকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে দেখতে চান অনেকেই
বিশেষ প্রতিবেদন :
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার ভাটেরা ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী বেড়কুঁড়ী গ্রামের কৃতি সন্তান, বাংলাদেশের সাবেক সচিব, সাবেক হাইকমিশনার, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা এবং বিশিষ্ট কবি-সাহিত্যিক এ. এইচ. মোফাজ্জল করিমকে দেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে দেখতে চাওয়ার প্রত্যাশা বিভিন্ন মহলে আলোচিত হচ্ছে।
দীর্ঘ চার দশকের কর্মজীবনে প্রশাসন, কূটনীতি, সাহিত্য ও জনসেবায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার জন্য তিনি সুপরিচিত। তাঁর সততা, দক্ষতা, প্রজ্ঞা ও অভিজ্ঞতার কারণে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে তাঁকে উপযুক্ত বলে মনে করছেন অনেকে। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো রাজনৈতিক দল বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত বা ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
১৯৪১ সালে মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলার ভাটেরা ইউনিয়নের বেড়কুঁড়ী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন এ. এইচ. মোফাজ্জল করিম। ১৯৬৩ সালে তিনি একজন তরুণ প্রভাষক হিসেবে সরকারি মুরারিচাঁদ (এমসি) কলেজে কর্মজীবন শুরু করেন। তিন বছর পর তৎকালীন পাকিস্তান সিভিল সার্ভিসের (সিএসপি) কর্মকর্তা হিসেবে সরকারি প্রশাসনে যোগ দেন। স্বাধীন বাংলাদেশে তিনি প্রশাসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন।
তিনি ১ জুন ১৯৯৫ থেকে ৩০ মে ১৯৯৬ পর্যন্ত মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং ১৯ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৭ থেকে ৫ আগস্ট ১৯৯৮ পর্যন্ত নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া ২৪ আগস্ট ১৯৯৬ থেকে ১৮ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৭ পর্যন্ত ভূমি আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের হাইকমিশনার এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।
প্রশাসনের পাশাপাশি সাহিত্যাঙ্গনেও তাঁর অবদান অনন্য। তিনি বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান কবি ও সাহিত্যিক হিসেবে সমাদৃত। তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে— অবচেতনে রাজাধিরাজ, একটি সার্টিফিকেট চাই, মুমূর্ষু বিকেল, জীবন মৃত্যু পায়ের ভৃত্য, জলের লিখন, দিনগুলি রাতগুলি, প্রথম দেখার দিন, আট কুঠুরি নয় দরজা, সেলাই করা খোলা মুখ, তোমার হাতে গ্রেনেড এবং আমার বুকে প্রেমসহ অসংখ্য কাব্যগ্রন্থ ও সাহিত্যকর্ম। চার খণ্ডেপ্রকাশিত তাঁর আত্মজীবনী সমাজ ও প্রশাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে বিবেচিত।
সাহিত্যে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি অগ্রণী ব্যাংক সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮৮), আলাওল সাহিত্য পুরস্কার (১৯৯৭), রাগীব-রাবেয়া সাহিত্য পুরস্কার (২০১০) এবং কেমুসাস সাহিত্য পুরস্কার (২০১৬)সহ একাধিক সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন।
প্রায় ৪০ বছরের বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে প্রশাসন, কূটনীতি ও সাহিত্যে সমান অবদান রেখে এ. এইচ. মোফাজ্জল করিম নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন একজন প্রাজ্ঞ রাষ্ট্রচিন্তক ও গুণী ব্যক্তিত্ব হিসেবে। দেশের এই কৃতি সন্তানকে রাষ্ট্রপতির আসনে দেখতে চাওয়ার প্রত্যাশা এখন বিভিন্ন মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে বিষয়টি সম্পূর্ণরূপে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভরশীল।
