![]() |
| দাখিল পরিক্ষার ফলাফল |
কুলাউড়া প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় ২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষার ফলাফলে দেখা গেছে মিশ্র চিত্র। উপজেলার বিভিন্ন মাদরাসার ফলাফল বিশ্লেষণে কোথাও সন্তোষজনক ফলাফল এলেও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে পাসের হার আশানুরূপ হয়নি। প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, কুলাউড়ায় মোট ৮৬২ জন পরীক্ষার্থী দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে ৪৬৫ জন পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে। এ উপজেলায় সামগ্রিক পাসের হার ৫৩ দশমিক ৯৪ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ জন।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস থেকে প্রকাশিত ফলাফলসংক্রান্ত তালিকায় প্রতিষ্ঠানভেদে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা, উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর সংখ্যা এবং পাসের হার উল্লেখ করা হয়েছে। সেই তালিকা পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, কুলাউড়ার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর ফলাফলে রয়েছে বেশ বৈচিত্র্য। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে পাসের হার ৮০ শতাংশের ওপরে থাকলেও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে তা ৫০ শতাংশের নিচে রয়েছে।
এর মধ্যে মনসুর মোহাম্মদিয়া সিনিয়র ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার ফলাফল বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। প্রতিষ্ঠানটি থেকে এবারের দাখিল পরীক্ষায় মোট ৩২ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। তাদের মধ্যে মাত্র ৮ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। ফলে প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার দাঁড়িয়েছে ২৫ শতাংশে। অর্থাৎ প্রতি চারজন পরীক্ষার্থীর মধ্যে একজন পরীক্ষার্থী পাস করেছে।
প্রকাশিত তালিকায় মনসুর মোহাম্মদিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার এই ফলাফল কুলাউড়ার সামগ্রিক ফলাফলের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট মহলে স্বাভাবিকভাবেই আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে একটি প্রতিষ্ঠানের ফলাফল দিয়ে পুরো শিক্ষাব্যবস্থার চিত্র মূল্যায়ন করা যায় না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি, নিয়মিত পাঠদান, প্রস্তুতির সুযোগ, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাত এবং পরীক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত প্রস্তুতিসহ নানা বিষয় ফলাফলের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
অন্যদিকে কুলাউড়ার বেশ কয়েকটি মাদরাসায় এবার তুলনামূলক ভালো ফলাফল হয়েছে। প্রকাশিত ফলাফল তালিকায় কিছু প্রতিষ্ঠানে পাসের হার ৮০ শতাংশের বেশি দেখা গেছে। আবার কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে পাসের হার ৭০ শতাংশের ওপরে রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের ভালো ফলাফল শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে স্বস্তি তৈরি করেছে।
ফলাফল বিশ্লেষণে আরও দেখা যায়, কুলাউড়ার ১৭টি প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত ফলাফলে পরীক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ উত্তীর্ণ হলেও প্রায় ৩৯৭ জন পরীক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে। সামগ্রিক পাসের হার ৫৩ দশমিক ৯৪ শতাংশ হওয়ায় প্রায় অর্ধেক পরীক্ষার্থীই কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জন করতে পারেনি। ফলে আগামী শিক্ষাবর্ষে পিছিয়ে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোতে পাঠদানের মানোন্নয়ন, নিয়মিত পরীক্ষা গ্রহণ এবং দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সহায়তার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছেন শিক্ষা-সংশ্লিষ্টরা।
এবারের ফলাফলে জিপিএ-৫ অর্জনের সংখ্যাও তুলনামূলক কম। উপজেলার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মোট ৩ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। ভালো ফল করা শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি যারা অকৃতকার্য হয়েছে, তাদেরও পরবর্তী পরীক্ষার জন্য যথাযথভাবে প্রস্তুত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।
শিক্ষাবিদদের মতে, পরীক্ষার ফলাফল শুধু একটি সংখ্যা নয়; এর সঙ্গে একটি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার পরিবেশ, শিক্ষকতার মান, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত অধ্যয়ন এবং অভিভাবকদের সচেতনতার বিষয়ও জড়িত। তাই কম পাসের হার পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোকে চিহ্নিত করে কারণ অনুসন্ধান করা জরুরি। একই সঙ্গে ভালো ফলাফল করা প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকর শিক্ষা-পদ্ধতি অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোতেও প্রয়োগ করা যেতে পারে।
কুলাউড়ার এবারের দাখিল ফলাফল তাই একদিকে যেমন সাফল্যের খবর দিয়েছে, অন্যদিকে কিছু প্রতিষ্ঠানের দুর্বল ফলাফল নিয়ে নতুন করে ভাবার সুযোগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে মনসুর মোহাম্মদিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসায় ৩২ জনের মধ্যে মাত্র ৮ জন পাস করার বিষয়টি প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার পরিবেশ ও ফলাফল উন্নয়নে সংশ্লিষ্টদের আরও মনোযোগী হওয়ার প্রয়োজনীয়তাকে সামনে এনেছে।
সব মিলিয়ে কুলাউড়ায় এবারের দাখিল পরীক্ষায় ৮৬২ জনের মধ্যে ৪৬৫ জন পাস, সামগ্রিক পাসের হার ৫৩.৯৪ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ জন। এখন সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, আগামী বছর উপজেলার পিছিয়ে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর ফলাফল আরও ভালো হবে এবং শিক্ষার্থীদের সাফল্যের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।
তথ্যসূত্র: কুলাউড়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের প্রকাশিত দাখিল পরীক্ষা ২০২৬-এর ফলাফলসংক্রান্ত তালিকা।
