||
Victory Times 71

সকালে ম্যাজিস্ট্রেট বন্ধ করলেন বাল্যবিয়ে, বিকেলে ‘বয়ফ্রেন্ডের’ সঙ্গে পালাল নাবালিকা

ভিক্টরি টাইমস ৭১

ছবি: সংগৃহীত 
খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি: খাগড়াছড়ির রামগড়ে বিয়ের সব আয়োজন প্রায় শেষ হওয়ার পর ১৩ বছর বয়সী ষষ্ঠ শ্রেণির এক শিশুর বাল্যবিয়ে বন্ধ করে দিয়েছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। একই সঙ্গে কনের বাবাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে এবং বরপক্ষকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

রোববার (৯ আগস্ট) রামগড় উপজেলার পাতাছড়া ইউনিয়নের থলিপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, থলিপাড়া গ্রামের মো. মহিন উদ্দিন মানিকের ১৩ বছর বয়সী মেয়ে ফারহানার সঙ্গে একই উপজেলার বলিপাড়া গ্রামের মো. ইউছুপের ছেলে ২৫ বছর বয়সী সাখাওয়াত হোসেনের বিয়ের দিন নির্ধারিত ছিল। সে অনুযায়ী কনের বাড়িতে বিয়ের সব আয়োজন সম্পন্ন করা হয়। বরযাত্রীও যথাসময়ে বিয়েবাড়িতে পৌঁছায় এবং তাদের খাওয়া-দাওয়াও শেষ হয়। বিয়ে পড়ানোর জন্য হুজুরও প্রস্তুত ছিলেন।

এরই মধ্যে বাল্যবিয়ের খবর পেয়ে রামগড় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দ্বীন আল জান্নাত পুলিশসহ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।

পরে কনের জন্মনিবন্ধন সনদ যাচাই করে দেখা যায়, তার জন্মতারিখ ২ জানুয়ারি ২০১৩। সে হিসেবে তার বয়স ১৩ বছরের কিছু বেশি। সে স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী।

জন্মনিবন্ধন যাচাইয়ের পর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে বিয়ের সব কার্যক্রম বন্ধ করে দেন। বাল্যবিয়ে আয়োজনের অপরাধে কনের বাবা মো. মহিন উদ্দিন মানিককে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭-এর ৮ ধারায় ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।

এ ছাড়া অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েকে বিয়ে না দেওয়া এবং প্রাপ্তবয়স্ক কনে ছাড়া বিয়ে না করার বিষয়ে পাত্র ও পাত্রী—উভয় পক্ষের অভিভাবকদের কাছ থেকে লিখিত মুচলেকা নেওয়া হয়। পরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে বরপক্ষকে তাদের নিজ বাড়িতে ফেরত পাঠানো হয়।

রামগড় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দ্বীন আল জান্নাত বলেন, কনের জন্মনিবন্ধন সনদ যাচাই করে তার বয়স ১৩ বছর পাওয়া গেছে। শিশুটির বয়সে বিয়ে দেওয়া আইনত অপরাধের পাশাপাশি একটি সামাজিক ব্যাধি। বিয়েবাড়িতে উপস্থিত সবাইকে বিষয়টি বোঝানো হয়েছে এবং তারা বিষয়টি বুঝতে পেরেছেন।

তবে পরবর্তী সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করা হয়, বাল্যবিয়ে বন্ধ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর ওই নাবালিকা কথিত এক বয়ফ্রেন্ডের সঙ্গে পালিয়ে গেছে। এ দাবিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লেও এ বিষয়ে প্রশাসন বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে পালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এটিকে দাবি হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী, মেয়েদের বিয়ের ন্যূনতম বয়স ১৮ বছর। এর আগে বিয়ে দেওয়ার আয়োজন করা হলে তা বাল্যবিবাহ হিসেবে গণ্য হয় এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে।

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Check Out
Ok, Go it!
To Top