||
Victory Times 71

নাসের রহমানকে নিয়ে অশ্লীল ভিডিও ছড়ানোর অভিযোগে কমলগঞ্জের পারভেজ গ্রেফতার

ভিক্টরি টাইমস ৭১


সাভার প্রতিনিধি: বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও মৌলভীবাজার-৩ (সদর-রাজনগর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নাসের রহমানকে নিয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে অশ্লীল ভিডিও তৈরি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে পারভেজ আলম খান (৩৬) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে সাইবার আইনে মামলা হয়েছে বলে জানা গেছে।
পুলিশের বরাত দিয়ে প্রকাশিত তথ্যে জানা যায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নাসের রহমানকে নিয়ে অশ্লীল ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগের তদন্ত করতে গিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে শনাক্ত করে। পরে সাভার এলাকা থেকে পারভেজ আলম খানকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার পারভেজ আলম খান মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার পতনঊষার ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্য গ্রামের বাসিন্দা। বর্তমানে তিনি সাভার থানাধীন রাজাশন এলাকার আলাউদ্দিন মসজিদের গলিতে বসবাস করছিলেন বলে পুলিশের দেওয়া তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে।


এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভিডিও তৈরির অভিযোগ


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের নিয়ে ভুয়া, বিকৃত কিংবা আপত্তিকর কনটেন্ট ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির সহজলভ্যতার কারণে কোনো ব্যক্তির ছবি বা ভিডিও ব্যবহার করে বাস্তবতার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ কনটেন্ট তৈরি করা তুলনামূলকভাবে সহজ হয়েছে।

নাসের রহমানকে ঘিরে করা মামলার ক্ষেত্রেও তদন্তকারীদের অভিযোগ, প্রযুক্তির ব্যবহার করে অশ্লীল ভিডিও তৈরি ও তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে। অভিযোগের সত্যতা, ভিডিও তৈরির পেছনে কারা জড়িত এবং এটি কোথা থেকে ছড়ানো হয়েছে—এসব বিষয় তদন্তের আওতায় রয়েছে বলে জানা গেছে।

তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কোনো ভিডিওকে সত্য ধরে নেওয়ার আগে সেটি যাচাই করা জরুরি। বিশেষ করে এআই দিয়ে তৈরি বা সম্পাদিত ভিডিও বাস্তব ঘটনার মতো দেখাতে পারে। ফলে আইনগত তদন্ত শেষ হওয়ার আগে ভিডিওটির বিষয়বস্তু সম্পর্কে চূড়ান্ত মন্তব্য করা সমীচীন নয়।



আগের অভিযোগ নিয়েও স্থানীয়ভাবে আলোচনা


পারভেজ আলম খানকে গ্রেপ্তারের খবর প্রকাশের পর স্থানীয় পর্যায়ে তার অতীত কর্মকাণ্ড নিয়েও নানা আলোচনা শুরু হয়েছে।

এর আগেও ডাকাতির অভিযোগে তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন।

এ ছাড়া স্থানীয় পর্যায়ে আরও অভিযোগ রয়েছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কমলগঞ্জ ও বৃহত্তর মৌলভীবাজারের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী এবং সামাজিকভাবে পরিচিত ব্যক্তিদের নিয়ে আপত্তিকর, কুরুচিপূর্ণ ও মানহানিকর মন্তব্য করে আসছিলেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী, রাজনৈতিক মতাদর্শের পার্থক্যকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ব্যক্তি ও নেতাকর্মীকে লক্ষ্য করে নিয়মিত স্ট্যাটাস দেওয়ার প্রবণতা ছিল তার। এসব পোস্টকে ঘিরে বিভিন্ন সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনাও তৈরি হয়েছে।



রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে প্রতিক্রিয়া


নাসের রহমানকে নিয়ে অশ্লীল ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তারের ঘটনা মৌলভীবাজারের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনেও আলোচনা তৈরি করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের নিয়ে কুৎসা, অপপ্রচার কিংবা বিকৃত কনটেন্ট ছড়ানো বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অনেকে।

স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মতে, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে। কিন্তু মতের বিরোধকে কেন্দ্র করে কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত মর্যাদা ক্ষুণ্ন করা, অশ্লীল কনটেন্ট তৈরি করা কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তা ছড়িয়ে দেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। একই সঙ্গে তারা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের একটি অংশও বলছে, কোনো ব্যক্তিকে নিয়ে আপত্তিকর ছবি বা ভিডিও সামনে এলে সেটি যাচাই না করে শেয়ার করা উচিত নয়। কারণ একটি ভুয়া বা এআই-নির্মিত ভিডিও মুহূর্তের মধ্যে হাজারো মানুষের কাছে পৌঁছে যেতে পারে এবং এর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সামাজিক ও রাজনৈতিক ভাবমূর্তির ওপর বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।



তদন্তে বেরিয়ে আসতে পারে প্রকৃত তথ্য


পারভেজ আলম খানকে গ্রেপ্তারের পর এখন তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে—ভিডিওটি কীভাবে তৈরি করা হয়েছিল, কে এটি তৈরি করেছে, কোন অ্যাকাউন্ট বা ডিভাইস থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো হয়েছে এবং এর পেছনে অন্য কেউ জড়িত কি না।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রযুক্তিগত তদন্তের মাধ্যমে এসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করছে বলে জানা গেছে। তদন্তে যদি আরও কারও সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়, তাহলে তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Check Out
Ok, Go it!
To Top