টানা ৩২ ঘণ্টা ধরে ব্রেন সার্জারি করে মেঝেতে লুটিয়ে পড়লেন দুই চিকিৎসক

ভিক্টরি টাইমস ৭১
0



টানা ৩২ ঘণ্টা ধরে ব্রেন সার্জারি করে মেঝেতে লুটিয়ে পড়লেন দুই চিকিৎসক — চীনের এক ছবিতে কেঁদে উঠলো মানবতা


চীনের এক হাসপাতালের ছবি ছুঁয়ে গেছে সারা বিশ্বের হৃদয়। ফুজিয়ান মেডিকেল ইউনিভার্সিটির ফার্স্ট অ্যাফিলিয়েটেড হাসপাতালে দুই সার্জন — ডাঃ দাই এবং ডাঃ তিয়ান, টানা ৩২ ঘণ্টা ধরে এক জটিল মস্তিষ্কের অস্ত্রোপচার চালান। রোগীর মস্তিষ্কে ধরা পড়েছিল প্রাণঘাতী ব্রেন অ্যানিউরিজম, যেখানে সামান্য ভুলও মৃত্যুর কারণ হতে পারত।


অস্ত্রোপচারের সময় তাঁদের চোখের নিচে ক্লান্তির ছাপ স্পষ্ট, কিন্তু মনোযোগে একটুও ঘাটতি ছিল না। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপারেশন টেবিলের সামনে দাঁড়িয়ে থেকে, তাঁরা অক্লান্তভাবে লড়েছেন রোগীর জীবনের জন্য। অবশেষে যখন সার্জারি সফলভাবে শেষ হয়, তাঁরা নিশ্চিত হন রোগী সম্পূর্ণ স্থিতিশীল। তারপরই তাঁদের শরীর আর টিকতে পারেনি — তাঁরা সোজা সেই অপারেশন থিয়েটারের ঠান্ডা মেঝেতেই শুয়ে পড়েন, যেখানে একটু আগেই তাঁরা এক জীবন ফিরিয়ে দিয়েছিলেন মৃত্যুর মুখ থেকে।


হাসপাতালের এক সহকর্মী সেই দৃশ্যের ছবি তুলেছিলেন, যেখানে দেখা যায় — দুই ডাক্তার এখনো সার্জিক্যাল পোশাক পরে মেঝেতে ঘুমিয়ে আছেন, তাঁদের চারপাশে এখনো সাজানো রয়েছে সার্জারির যন্ত্রপাতি। ছবিটি মুহূর্তের মধ্যেই ভাইরাল হয়ে যায়, এবং ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বজুড়ে। লক্ষ লক্ষ মানুষ সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন — “এই ছবিই মানবতার প্রকৃত মুখ।”


ডাঃ দাই ও ডাঃ তিয়ান কোনো পুরস্কার, প্রশংসা বা আলোচনার জন্য এমন কাজ করেননি। তাঁদের একমাত্র লক্ষ্য ছিল একজন মানুষের জীবন বাঁচানো। তাঁদের এই আত্মত্যাগ আজ চিকিৎসা পেশার প্রতি মানুষের শ্রদ্ধাকে আরও গভীর করেছে।


এই ছবিটি কেবল একটি মুহূর্ত নয় — এটি প্রতিদিনের সেই সংগ্রামের প্রতীক, যা হাজারো ডাক্তার, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মী নীরবে চালিয়ে যান। তাঁরা ক্লান্ত হন, কষ্ট পান, কিন্তু পিছু হটেন না। কারণ তাঁদের কাছে রোগীই প্রথম, আর মানবতাই তাঁদের ধর্ম।


বিশ্বজুড়ে অনেকেই বলেছেন — “সব নায়ক কেপ পরে না, কেউ কেউ সার্জিক্যাল স্ক্রাব পরে।” সত্যিই, আজকের দিনে যখন সমাজে চিকিৎসকদের প্রায়ই সন্দেহের চোখে দেখা হয়, তখন এই দুই সার্জনের কাজ যেন এক অমূল্য শিক্ষা — নিষ্ঠা, করুণা ও মানবতার প্রতি অবিচল বিশ্বাসই একজন প্রকৃত চিকিৎসকের আসল পরিচয়।


এই দুই নায়কের নাম হয়তো ইতিহাসের পাতায় বড় অক্ষরে লেখা হবে না,

কিন্তু তাঁদের নিঃস্বার্থ কাজ চিরকাল বেঁচে থাকবে সেই প্রতিটি হৃদয়ে,

যেখানে জীবন আবার ধ্বনিত হয়েছে তাঁদের হাতের ছোঁয়ায়।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)
banner
banner

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Check Out
Ok, Go it!
To Top