বুধবার (১৩ ডিসেম্বর) রাতের দিকে আবেইয়ে অবস্থিত জাতিসংঘের অন্তর্বর্তী নিরাপত্তা বাহিনী (UNISFA)-এর একটি অবস্থানে এই হামলার ঘটনা ঘটে। হামলার পর থেকে সন্ত্রাসীদের সঙ্গে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর শান্তিরক্ষীদের সংঘর্ষ এখনও চলমান রয়েছে বলে সর্বশেষ খবরে জানা গেছে।
স্থানীয় সময় রাতে সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী অতর্কিতভাবে জাতিসংঘ ঘাঁটিতে হামলা চালায়। ভারী অস্ত্র ও আধুনিক সরঞ্জাম ব্যবহার করে চালানো এই হামলায় শান্তিরক্ষীদের অবস্থান লক্ষ্য করে গুলি ও বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর শান্তিরক্ষীরা তাৎক্ষণিকভাবে পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তুললে এলাকায় তীব্র সংঘর্ষ শুরু হয়।
হামলায় ঘটনাস্থলেই ছয়জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী শহীদ হন। গুরুতর আহতদের দ্রুত জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে নিকটবর্তী সামরিক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক বিবৃতিতে হতাহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়, “বাংলাদেশ শান্তিরক্ষীরা সর্বোচ্চ সাহসিকতার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করছেন। আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করা হচ্ছে এবং নিহতদের মরদেহ দেশে ফেরানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।”
বাংলাদেশ সরকার এই ন্যাক্কারজনক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে জাতিসংঘের কাছে শান্তিরক্ষীদের নিরাপত্তা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছে।
উল্লেখ্য, আবেই অঞ্চলটি সুদান ও দক্ষিণ সুদানের মধ্যকার একটি দীর্ঘদিনের বিতর্কিত এলাকা। এখানকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় জাতিসংঘ দীর্ঘদিন ধরে সেখানে শান্তিরক্ষা মিশন পরিচালনা করে আসছে। সম্প্রতি সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় শান্তিরক্ষীদের ওপর হামলার ঝুঁকিও বেড়েছে।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। হামলার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জাতিসংঘ ও সংশ্লিষ্ট বাহিনী যৌথভাবে অভিযান চালাচ্ছে।
