![]() |
| প্রয়াত সৈয়দ মহসীন আলী |
১৯৪৮ সালের ১২ ডিসেম্বর মৌলভীবাজারের একটি সুপরিচিত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন সৈয়দ মহসীন আলী। ছোটবেলা থেকেই তিনি ছিলেন বিনয়ী, নীতিবদ্ধ এবং মানবিক গুণে সমৃদ্ধ।
স্থানীয় বিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষে সিলেট ও ঢাকার শিক্ষাঙ্গনে উচ্চশিক্ষা অর্জন করেন। ছাত্রজীবনেই সংগঠন, মানবিক কাজ ও নেতৃত্বে দক্ষতা তাকে ভবিষ্যতের রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রস্তুত করে।
১৯৭১ সালে স্বাধীনতার ডাক আসতেই তিনি দ্বিধাহীনভাবে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন।
মৌলভীবাজার-সিলেট অঞ্চলের বিভিন্ন রণাঙ্গনে তিনি সরাসরি যুদ্ধ করেন এবং মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠক হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
স্বাধীনতার পর রাষ্ট্র তাকে বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সম্মানিত করে।
স্বাধীনতার পর তিনি সম্পূর্ণভাবে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে নিজেকে যুক্ত করেন।
সততা, সংগঠন দক্ষতা ও মানুষের জন্য নিরলস পরিশ্রমের মাধ্যমে তিনি দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।
মৌলভীবাজার পৌরসভার সফল মেয়র
২০০৯ সালে তিনি মৌলভীবাজার পৌর মেয়র নির্বাচিত হন। তার নেতৃত্বে—
শহরের রাস্তা-ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নয়ন,
অবকাঠামো আধুনিকায়ন,
পরিচ্ছন্নতা ও নাগরিকসেবা বৃদ্ধি
—এসব ক্ষেত্রে ব্যাপক অগ্রগতি সাধিত হয়।
তার মেয়াদকাল শহর উন্নয়নের স্বর্ণযুগ হিসেবে পরিচিত।
২০১৪ সালে তিনি বাংলাদেশ সরকারের সমাজকল্যাণমন্ত্রী হিসেবে মন্ত্রিসভায় যোগ দেন। দায়িত্ব নেয়ার পর তিনি বিশেষভাবে পরিচিত হন—
সুবিধাবঞ্চিত মানুষের সুরক্ষায় জোরালো পদক্ষেপ
বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতা কার্যক্রমে স্বচ্ছতা
সমাজসেবা অধিদপ্তরের কার্যক্রম ডিজিটালাইজেশন
মানবিক সেবার নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ
সহকর্মীরা তাকে অত্যন্ত সৎ, সাহসী ও কর্মঠ একজন মন্ত্রী হিসেবে উল্লেখ করেন।
সৈয়দ মহসীন আলী ছিলেন সাধারণ মানুষের খুব কাছে থাকা একজন নেতা।
তিনি মানুষের সুখ-দুঃখে নিবেদিতপ্রাণ ছিলেন, আর এ কারণেই তিনি মৌলভীবাজারসহ সারাদেশে ছিলেন জনপ্রিয় ও শ্রদ্ধেয়।
২০১৫ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তার দাফন সম্পন্ন হয়।
তার মৃত্যুতে রাজনীতির অঙ্গন ও মুক্তিযোদ্ধা সমাজ গভীর শোক প্রকাশ করে।
আজ তার জন্মদিনে রাজনৈতিক সহকর্মী, মুক্তিযোদ্ধা, পরিবার এবং সাধারণ মানুষ তাকে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছে।
সবার প্রার্থনা—
আল্লাহ যেনো এই দেশপ্রেমিক জননেতাকে জান্নাতুল ফেরদৌসের সর্বোচ্চ মাকাম দান করেন। আমিন।
