![]() |
| ছবি: সংগৃহীত |
গত মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) বিপাশা আক্তার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (দ্রুত বিচার) আদালতে এ মামলা দায়ের করেন। পরে আদালত অভিযোগের নথি তদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) তদন্তের নির্দেশ দেন।
এজাহারে বলা হয়েছে, প্রায় এক মাস আগে বিপাশা আক্তার ও তাঁর স্বামী কেফায়েত উল্লাহ দলের অন্যান্য নেতাদের সঙ্গে এনসিপির ঢাকা কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যান। সেখানে তারা দলীয় শীর্ষ নেতা নাসির উদ্দিন পাটোয়ারীর সঙ্গে ছবি তোলেন। ওই ছবি আখাউড়া ইউনিটের একটি গ্রুপে পাঠানো হলে কিছু নেতাকর্মী এতে ক্ষুব্ধ হন এবং বাদীকে নিয়ে কটূক্তি ও অপমানজনক মন্তব্য করেন।
বিষয়টি নিয়ে বিপাশা বিচার চাইতে গেলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়। মামলার দাবি অনুযায়ী, এনসিপি নেতা মোহাম্মদ আতাউল্লাহর নির্দেশে কয়েকজন নেতাকর্মী তাঁকে অপমান করার সুযোগ খুঁজতে থাকেন।
মারধর ও স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ
গত ২৯ নভেম্বর বিপাশা, তাঁর স্বামী এবং আরও কয়েকজন দলীয় সদস্য শহরের পৈরতলা বাসস্ট্যান্ডে অবস্থিত এনসিপির জেলা কার্যালয়ে যান। সেখানে বিপাশা লিখিত অভিযোগ জমা দিলে উপস্থিত কয়েকজন নেতা ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁকে চড়-থাপ্পড় মারেন। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে—এনসিপির আখাউড়া ইউনিটের প্রধান সমন্বয়কারী ইয়াকুব আলী অন্তঃসত্ত্বা বিপাশার পেটে লাথি মারেন এবং তাঁর গলা থেকে এক ভরি দুই আনা ওজনের স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেন। এ সময় তাঁকে ও তাঁর স্বামীকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়।
মামলায় আসামি করা হয়েছে—
এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের যুগ্ম মুখ্য সংগঠক মোহাম্মদ আতাউল্লাহ (৩৪)
বিজয়নগরের প্রধান সমন্বয়কারী আমিনুল হক চৌধুরী (৫০)
আখাউড়ার প্রধান সমন্বয়কারী ইয়াকুব আলী (৪২)
সদস্য সাকিব মিয়া (২৫)
সদস্য রতন মিয়া (৪২)
অভিযুক্ত ইয়াকুব আলী দাবি করেন, অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। তাঁর ভাষায়, দলীয় কার্যালয়ে ভাড়া করা সন্ত্রাসী এনে তাঁকেই মারধর করা হয়েছে এবং পরে পুলিশ এসে তাঁকে উদ্ধার করেছে।
অন্যদিকে, এনসিপির নেতা মোহাম্মদ আতাউল্লাহ বলেন—“আমাকে হেয় করতে এমন অভিযোগ তোলা হয়েছে। এসব ঘটনার সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।”
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আজহারুল ইসলাম জানান, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হলেও মামলার নথি এখনও থানায় পৌঁছায়নি। নথি পাওয়ার পর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
