ইসতাক আহমদ বোরহান হত্যাকাণ্ডের এক বছর আজ, ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় পরিবার

ভিক্টরি টাইমস ৭১

ছবি: সংগৃহীত 
"রাজনৈতিক পরিচয়ের অভিযোগে আটক, মিথ্যা মামলা ও নির্যাতনের মাধ্যমে মৃত্যুর দাবি স্বজনদের"


কুলাউড়া প্রতিনিধি: 
আজ ২৩ ডিসেম্বর। মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলার কাদিপুর ইউনিয়নের কৌলারশি (মিয়ারমহল) এলাকার বাসিন্দা এবং কাদিপুর ইউনিয়নের সাবেক তিনবারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান, কুলাউড়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও কুলাউড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি এ কে এম শফি আহমদ সলমানের ছোট ভাই ইসতাক আহমদ বোরহান হত্যাকাণ্ডের এক বছর পূর্ণ হলো।


স্বজনদের অভিযোগ, ৫ আগস্ট ২০২৪ ছাত্র–জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর যৌথবাহিনীর একটি দল তাকে আটক করে। পরিবার দাবি করে, আটকের পেছনে কোনো সুনির্দিষ্ট অপরাধ না থাকলেও তাকে ‘আওয়ামী লীগ পরিবারের সন্তান’—এই পরিচয়কে অপরাধী হিসেবে তুলে ধরা হয়।



স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইসতাক আহমদ বোরহান একজন সহজ-সরল ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী হওয়া সত্ত্বেও তাকে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে ভয়ংকর অপরাধী হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। এরপর তথাকথিত ‘গডফাদার’ আখ্যা দিয়ে নির্যাতনের দিকে ঠেলে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।



ধারাবাহিক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের ফলে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে এই নির্যাতনের ফলে তিনি মৃত্যুর মুখে পতিত হন বলে দাবি পরিবারের। তাদের মতে, কাউকে সরাসরি আঘাত করে হত্যা না করলেও পরিকল্পিতভাবে আটক, মামলা, নির্যাতন ও টর্চারের মাধ্যমে তিলে তিলে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়াও আইনের দৃষ্টিতে হত্যা হিসেবে বিবেচিত হওয়া উচিত।



এই প্রক্রিয়ায় শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত যারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত ছিল—পরিকল্পনাকারী, প্ররোচনাদাতা ও বাস্তবায়নকারীদের সবাইকে হত্যাকারী হিসেবে চিহ্নিত করে দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্বজনরা।

এক বছর পার হলেও মামলার দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন পরিবার ও এলাকাবাসী। তারা নিরপেক্ষ তদন্ত, সত্য উদঘাটন এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।



এদিকে মরহুম ইসতাক আহমদ বোরহানের রূহের মাগফিরাত কামনায় আজ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। একই সঙ্গে তার পরিবার ও এলাকাবাসী ন্যায়বিচারের পক্ষে সোচ্চার থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Check Out
Ok, Go it!
To Top