বিদেশে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামানের ২৯৭ বাড়ি ও ৩০ অ্যাপার্টমেন্ট জব্দের আদেশ

ভিক্টরি টাইমস ৭১

 
ছবি: সংগৃহীত 
নিউজ ডেস্ক: সাবেক ভূমিমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতা সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ–এর বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অর্থপাচারের অভিযোগে বিদেশে থাকা বিপুল পরিমাণ সম্পদ জব্দের নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকার একটি আদালত। তার মালিকানাধীন ২৯৭টি বাড়ি ও ৩০টি অ্যাপার্টমেন্ট জব্দের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগ করা এক কোটি মার্কিন ডলার অবরুদ্ধের আদেশ দেওয়া হয়েছে।



মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক সাব্বির ফয়েজ দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই আদেশ দেন। একই দিনে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)-এর আরেকটি আবেদনের শুনানি শেষে আদালত জাবেদসহ ছয়জনের নামে থাকা ৪ কোটি ৬৪ লাখ ৬৩ হাজার ৪৫৫টি শেয়ার অবরুদ্ধ করার নির্দেশ দেন।



দুদক সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, সাইফুজ্জামান জাবেদের নামে বিদেশে থাকা ২৯৭টি বাড়ির দেশভিত্তিক বিবরণ—

যুক্তরাষ্ট্র: ৪০টি বাড়ি

থাইল্যান্ড: ২৩টি

মালয়েশিয়া: ৪৭টি

দুবাই: ৫৯টি

কম্বোডিয়া: ১১৭টি

ভিয়েতনাম: ৪টি

ভারত: ৯টি

ফিলিপাইন: ২টি

এছাড়াও বিভিন্ন দেশে তার মালিকানাধীন ৩০টি অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে বলে দুদক জানিয়েছে। এসব সম্পদ ক্রয়ে ব্যবহৃত অর্থের উৎস নিয়ে গুরুতর সন্দেহ রয়েছে বলে তদন্ত সংস্থাগুলো দাবি করছে।



আদালতের আদেশ অনুযায়ী—

যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগ করা ১ কোটি মার্কিন ডলার অবরুদ্ধ জাবেদ ও সংশ্লিষ্টদের নামে থাকা ৪ কোটির বেশি শেয়ার লেনদেন নিষিদ্ধ এই পদক্ষেপগুলো নেওয়া হয়েছে যাতে তদন্ত চলাকালে সম্পদ হস্তান্তর বা পাচার করা না যায়।



দুর্নীতি দমন কমিশনের উপ-পরিচালক মশিউর রহমান আদালতে আবেদন করে জানান, সাইফুজ্জামান জাবেদ ক্ষমতার অপব্যবহার করে দেশে-বিদেশে অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন। এসব সম্পদের বৈধ আয়ের কোনো গ্রহণযোগ্য উৎস পাওয়া যায়নি। দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা তানজীর আহমেদ আদালতের আদেশের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেন।



সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ—

২০১৪–২০১৮: ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী

২০১৯–২০২৩: ভূমিমন্ত্রী

২০২৪ সালের সংসদ নির্বাচনের আগে তার বিরুদ্ধে বিদেশে বিপুল সম্পদ গড়ার অভিযোগ প্রকাশ্যে আসে। এরপর তাকে আর মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।



২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আগমুহূর্তে তিনি স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে লন্ডনে পাড়ি জমান। পরে তার বিরুদ্ধে অর্থপাচার, দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুদক ও সিআইডির পক্ষ থেকে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়।



দুদক ও সিআইডি জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে বিদেশে থাকা সম্পদের বিস্তারিত তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। তদন্ত শেষ হলে এসব সম্পদ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার জন্য আদালতে চূড়ান্ত আবেদন করা হবে।

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Check Out
Ok, Go it!
To Top