![]() |
| ছবি: কাদের ভূঁইয়া |
নিহত আজিমুল কাদের ভূঁইয়া ওই গ্রামের মৃত মান্নান ভূঁইয়ার ছেলে। তিনি বেলাব উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং বাজনাব ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি তিনি স্থানীয়ভাবে একটি পোলট্রি খামারের ব্যবসা পরিচালনা করতেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে আজিমুল কাদের ভূঁইয়া নিজ এলাকার পোলট্রি খামার থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন। এরপর থেকে তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাকে না পেয়ে পরদিন বুধবার (২৮ জানুয়ারি) তার ভাগিনা মো. উমর ফারুক বাদী হয়ে বেলাব থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
নিহতের পরিবারের দাবি, নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ১৫ দিন আগে আজিমুল কাদের ভূঁইয়া তার পোলট্রি খামারে কাজের জন্য দুইজন শ্রমিক নিয়োগ দিয়েছিলেন। তাদের একজনের নাম রুবেল জানা গেলেও অপরজনের পরিচয় সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। আশঙ্কার বিষয় হলো, আজিমুল নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই ওই দুই শ্রমিকেরও কোনো সন্ধান নেই। পাশাপাশি খামারে থাকা সব মুরগি উধাও হয়ে গেছে। এসব কারণে ঘটনাটি আরও রহস্যজনক হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
এদিকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর স্থানীয়রা গ্রামের একটি ডোবায় বস্তাবন্দি মরদেহ ভাসতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। পরে বেলাব থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।
বেলাব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম আমানউল্লাহ মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, নিহতের খামারের পাশের একটি ডোবা থেকে রাত ৮টার দিকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি একসময় ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট ও তদন্তের অগ্রগতি অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। দ্রুত হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন ও জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
