![]() |
| ছবি: সংগৃহীত |
নাহিদ ইসলাম বলেন, ভবিষ্যৎ সরকার হবে সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক। সেখানে নারী ও সংখ্যালঘুসহ সকল নাগরিকের অধিকার নিশ্চিত করা হবে। জামায়াতের সঙ্গে এনসিপির বর্তমান সম্পর্ককে তিনি কেবল একটি ‘নির্বাচনী সমঝোতা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এনসিপির মৌলিক আদর্শের পরিপন্থী কোনো কাজ হলে এই সম্পর্ক ছিন্ন করতে তারা দ্বিধা করবেন না।
জোটের প্রেক্ষাপট ও কৌশল দিল্লির ব্যুরোপ্রধান নম্রতা বিজি আহুজাকে দেওয়া এই সাক্ষাৎকারে নাহিদ জানান, জামায়াত বর্তমানে তাদের পুরোনো কট্টরপন্থী অবস্থান থেকে সরে এসে জাতীয় সরকার ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতির কথা বলছে। এনসিপি আসন্ন নির্বাচনে জোটগতভাবে ৩০টি আসনে লড়ছে। তিনি মনে করেন, জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনাকে সংসদে তুলে ধরতে এবং বড় দলগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে এই সমঝোতা অপরিহার্য ছিল।
শুরুতে এককভাবে নির্বাচনের পরিকল্পনা থাকলেও ওসমান হাদি হত্যার পর এনসিপি কৌশল পরিবর্তন করে। নাহিদ ইসলামের মতে, জুলাই অভ্যুত্থানের নেতাদের পরিকল্পিতভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। এই ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় আদর্শিক একাকিত্বের চেয়ে বৃহত্তর ঐক্যকেই তিনি বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।
ভারত ও শেখ হাসিনা প্রসঙ্গ প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে নাহিদ ইসলাম সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, সুসম্পর্ক বজায় রাখতে হলে ভারতকে তাদের পুরোনো নীতি পরিবর্তন করতে হবে। বিশেষ করে সীমান্ত হত্যা বন্ধ এবং বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ না করার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও ঘোষণা করেন যে, তাদের নির্বাচনী ইশতেহারের অন্যতম প্রধান দাবি হবে শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনা। ভারত যদি তাকে ফেরত না দেয়, তবে দুই দেশের মধ্যে আস্থার সম্পর্ক বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়বে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সংস্কার ও আইনশৃঙ্খলা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার কার্যক্রমের প্রশংসা করলেও দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন নাহিদ। তিনি অভিযোগ করেন, পুরোনো প্রভাবশালী গোষ্ঠীগুলো পুনরায় সংগঠিত হয়ে সংস্কারের পথে বাধা সৃষ্টি করছে।
নাহিদ ইসলাম বিশ্বাস করেন, দেশের মানুষ এখন অভিজ্ঞ দলগুলোর ব্যর্থতার পর তরুণ নেতৃত্বের প্রতি আশাবাদী। সংসদের মাধ্যমেই রাজপথের আন্দোলনকে একটি স্থায়ী রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় রূপ দিতে তারা অঙ্গীকারবদ্ধ।
সূত্র: দ্য উইক
