
কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবে মৌলভীবাজার সদর উপজেলাসহ আশপাশের এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। তবে এই বিদ্যুৎ বিভ্রাটের চেয়েও বড় আপদ হয়ে দাঁড়িয়েছে মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট সমস্যা। বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার সাথে সাথেই উধাও হয়ে যাচ্ছে মোবাইল নেটওয়ার্ক, ফলে ডিজিটাল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে বিপাকে পড়েছেন হাজার হাজার মানুষ।
মৌলভীবাজার জেলা শহরে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি মাঝে মাঝে স্বাভাবিক মনে হলেও, সদর উপজেলার গ্রামীণ জনপদ এবং পার্শ্ববর্তী ইউনিয়নগুলোর চিত্র একেবারেই ভিন্ন। অনেক এলাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না। স্থানীয়দের অভিযোগ, কোনো কোনো গ্রামে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এক ঘণ্টাও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ মিলছে না।
সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন সীমান্তবর্তী ও প্রত্যন্ত এলাকার বাসিন্দারা। সদর উপজেলার বিভিন্ন পয়েন্ট এবং পার্শ্ববর্তী গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে বিদ্যুৎ যাওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই মোবাইলের সিগন্যাল বার শূন্য হয়ে যাচ্ছে। এর ফলে জরুরি প্রয়োজনে কল বা মেসেজ করা সম্ভব হচ্ছে না। ইন্টারনেট ভিত্তিক ব্যবসায়িক কার্যক্রম ও ফ্রিল্যান্সিং কাজ ব্যাহত হচ্ছে। বিদেশে অবস্থানরত স্বজনদের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিভিন্ন মোবাইল অপারেটরের টাওয়ারগুলোতে আগে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে জেনারেটর চালু রাখা হতো। কিন্তু বর্তমানে বিদ্যুৎ যাওয়ার পর দীর্ঘ সময় পার হলেও জেনারেটর চালানো হচ্ছে না। গ্রামীণফোন ও রবিসহ প্রধান অপারেটরদের টাওয়ারগুলোতে ব্যাকআপ ব্যবস্থা কেন সচল নেই, তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।
ভুক্তভোগীরা জানান,"বিদ্যুৎ না থাকলে জেনারেটর চালু করে নেটওয়ার্ক সচল রাখা টাওয়ার কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। কিন্তু বর্তমানে তারা জেনারেটর বন্ধ রাখায় আমরা পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছি। কর্তৃপক্ষের গাফিলতির কারণেই আমাদের এই ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।"
মৌলভীবাজার সদর ও আশপাশের এলাকার সচেতন নাগরিকরা মনে করছেন, ডিজিটাল বাংলাদেশের সেবা প্রান্তিক পর্যায়ে পৌঁছে দিতে হলে নিরবচ্ছিন্ন মোবাইল নেটওয়ার্ক অপরিহার্য। কালবৈশাখীর এই সময়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার পাশাপাশি মোবাইল অপারেটরগুলো যেন তাদের টাওয়ারে পর্যাপ্ত পাওয়ার ব্যাকআপ নিশ্চিত করে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মহলের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।