![]() |
| ছবি: কায়সারুজ্জামান, স্ত্রী, মেয়ে ও প্রেমিকা |
ভিক্টরি টাইমস ৭১-এর প্রতিনিধির সঙ্গে একান্ত আলাপকালে আবেগঘন কণ্ঠে নুসরাত জাহান ইতি দাবি করেন, স্বামীর এই কর্মকাণ্ডের কারণে তাঁর দীর্ঘ ১৩ বছরের দাম্পত্য জীবন আজ ভেঙে পড়ার মুখে।
তিনি বলেন, একটি সুখী সংসার, সন্তানদের ভবিষ্যৎ এবং পারিবারিক সম্মান রক্ষায় তিনি সবসময় চেষ্টা করেছেন। কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো তাঁর জীবনকে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে দিয়েছে।
তিনি বলেন,
“আমি তাকে ভালোবেসে সংসার করেছি। সুখ-দুঃখে পাশে থেকেছি। কিন্তু আজ আমার ১৩ বছরের সাজানো সংসার ধ্বংসের মুখে। আমার সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আমি গভীর উদ্বেগে আছি।”
![]() |
| কায়সারুজ্জামান, স্ত্রী ও মেয়ে |
নুসরাত জাহান ইতির দাবি, বেশ কিছুদিন ধরেই কায়সারুজ্জামান ও তাঁর প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী এনি খানের মধ্যে অবৈধ ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নিয়ে এলাকায় আলোচনা চলছিল। বিষয়টি নিয়ে তিনি স্বামী কায়সারুজ্জামানকে একাধিকবার জানতে চাইলেও বিভিন্নভাবে তিনি তা অস্বীকার করেন। পরে শিক্ষার্থীকে নিয়ে কায়সারুজ্জামানের চলে যাওয়ার ঘটনা প্রকাশ্যে এলে তিনি পুরো বিষয়টি জানতে পারেন বলে জানান।
তিনি আরও বলেন,
“বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে বিষয়টি শুনেছি। যখন জানতে চেয়েছি, তখন আমাকে আশ্বস্ত করা হয়েছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত যা ঘটেছে, তা আমার কল্পনারও বাইরে ছিল।”
কায়সারুজ্জামানের স্ত্রীর ভাষ্যমতে, এই ঘটনার সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে তাঁদের সন্তানদের ওপর। সন্তানরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে এবং পরিবারটি সামাজিকভাবে বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন,
“আমার বড় সন্তান বারবার জানতে চায় কেন এতদিন বিষয়টি আমাদের কাছ থেকে লুকানো হয়েছিল। একজন মা হিসেবে এই প্রশ্নগুলোর উত্তর দেওয়া আমার জন্য অত্যন্ত কষ্টের।”
![]() |
| কায়সারুজ্জামানের দুই কন্যা |
নুসরাত জাহান ইতি বলেন,
“আমি শুধু আমার সন্তানদের অধিকার ও সম্মানের জন্য লড়াই করতে চাই। একজন শিক্ষক হিসেবে সমাজে তাঁর একটি মর্যাদা ছিল। কিন্তু আজ আমি এবং আমার সন্তানরা চরম মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে আছি।”
তিনি আরও জানান, বিষয়টি নিয়ে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয় বিবেচনা করছেন এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে প্রশাসনের সহযোগিতা চাইবেন।
এদিকে ঘটনাটি নিয়ে কুলাউড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয় অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও সচেতন নাগরিকদের একাংশ মনে করছেন, ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি একজন শিক্ষকের নৈতিক দায়বদ্ধতার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত বলে মত দিয়েছেন তাঁরা।
এই প্রতিবেদনে প্রকাশিত অভিযোগ ও বক্তব্যগুলো কায়সারুজ্জামানের প্রথম স্ত্রী নুসরাত জাহান ইতির বক্তব্যের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। প্রতিবেদন প্রকাশের পূর্ব পর্যন্ত শিক্ষক কায়সারুজ্জামান এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।


