![]() |
| সাড়ে ১০টায়ও ফাঁকা কার্যালয় |
মঙ্গলবার (১৬/৬/২০২৬) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সরেজমিনে কমলগঞ্জ এলজিইডি কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, অফিসের একাধিক কক্ষ খোলা থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অনেকেই নিজ নিজ কর্মস্থলে উপস্থিত ছিলেন না। কিছু কক্ষে চেয়ার-টেবিল ফাঁকা পড়ে থাকতে দেখা যায়। এতে প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক কাজ নিয়ে আসা মানুষজনকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়।
কার্যালয়ে আসা কয়েকজন সেবাগ্রহীতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, অফিস সময় শুরু হওয়ার পরও তারা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের খুঁজে পাননি। জরুরি কাগজপত্রে স্বাক্ষর, বিল সংক্রান্ত কাজ, প্রকল্পের অগ্রগতি বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ এবং অন্যান্য প্রশাসনিক কার্যক্রমের জন্য এসে তাদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
একজন সেবাগ্রহীতা বলেন, “সরকারি অফিসে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত থাকবেন—এটাই স্বাভাবিক প্রত্যাশা। কিন্তু অফিসে এসে যদি দায়িত্বপ্রাপ্ত কাউকে না পাওয়া যায়, তাহলে সাধারণ মানুষকে অকারণে হয়রানির শিকার হতে হয়।”
স্থানীয় কয়েকজন ঠিকাদারও অভিযোগ করেন, এলজিইডি কার্যালয়ে বিভিন্ন কাজের অনুমোদন, নথিপত্র যাচাই ও বিল সংক্রান্ত কার্যক্রমের জন্য নিয়মিত আসতে হয়। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতির কারণে অনেক সময় নির্ধারিত কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হয় না, যা প্রকল্প বাস্তবায়নেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
এ বিষয়ে কার্যালয়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের বক্তব্য জানার জন্য চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কাউকে পাওয়া যায়নি। ফলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনুপস্থিতির কারণ সম্পর্কে কোনো মন্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
সেবাগ্রহীতারা সরকারি দপ্তরগুলোতে সময়ানুবর্তিতা নিশ্চিত এবং জনগণের সেবা প্রাপ্তি নির্বিঘ্ন করতে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
উল্লেখ্য, সরকারি বিধি অনুযায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে উপস্থিত থেকে জনগণকে সেবা প্রদান করার কথা রয়েছে। কিন্তু কমলগঞ্জ এলজিইডি কার্যালয়ের মঙ্গলবার সকালের এমন চিত্র জনমনে প্রশ্নের সৃষ্টি করেছে এবং সরকারি সেবার মান নিয়ে নতুন করে আলোচনা জন্ম দিয়েছে।
