![]() |
| আগুনে পুড়ছে প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার |
গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর সংঘবদ্ধ হামলাকারীরা প্রথমে প্রথম আলো কার্যালয়ে হামলা চালায়। পরে তারা দ্য ডেইলি স্টার ভবনে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। এ সময় ভবনের ভেতরে ২৯ জন সাংবাদিক ও কর্মকর্তা-কর্মচারী আটকা পড়েন। হামলায় ভবনের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি সংবাদপত্র দুটির কার্যক্রমও সাময়িকভাবে ব্যাহত হয়।
ঘটনার পর পৃথক দুটি মামলা দায়ের করে দ্য ডেইলি স্টার ও প্রথম আলো কর্তৃপক্ষ। দ্য ডেইলি স্টারের মামলায় ৩৫০ থেকে ৪০০ জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে আসামি করা হয়। মামলায় দণ্ডবিধি, সন্ত্রাসবিরোধী আইন, বিশেষ ক্ষমতা আইন ও সাইবার নিরাপত্তা অধ্যাদেশের বিভিন্ন ধারায় অভিযোগ আনা হয় এবং প্রায় ৪০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতির কথা উল্লেখ করা হয়।
হামলার পরপরই পুলিশ মোট ৩৭ জনকে গ্রেপ্তার করলেও তদন্তকারীদের দাবি, ঘটনাস্থলের ভিডিও ফুটেজ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ডিজিটাল তথ্য বিশ্লেষণ করেও এখন পর্যন্ত হামলায় জড়িত সবাইকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। নতুন করে সন্দেহভাজন কাউকে গ্রেপ্তারও করা যায়নি।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি হামলার শিকার দুই সংবাদমাধ্যমের কার্যালয় পরিদর্শন করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ দুই মাসের মধ্যে নিরপেক্ষ তদন্ত শেষ করে অভিযোগপত্র দাখিলের নির্দেশ দেন। তিনি বলেছিলেন, এ ধরনের নজিরবিহীন হামলা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনতেই হবে।
তবে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও তদন্ত শেষ হয়নি। আদালত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময়সীমা বাড়িয়ে দিয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তারা বলছেন, আরও কিছু সন্দেহভাজনের বিরুদ্ধে তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহের কাজ চলছে। তড়িঘড়ি করে চার্জশিট দিলে কেবল গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের নামই অন্তর্ভুক্ত হবে, তাই পূর্ণাঙ্গ তদন্ত নিশ্চিত করেই অভিযোগপত্র দেওয়া হবে।
আদালতের নথি অনুযায়ী, প্রথম আলো মামলার অধিকাংশ গ্রেপ্তার আসামি ইতোমধ্যে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। একইভাবে দ্য ডেইলি স্টার মামলাতেও কয়েকজন আলোচিত আসামিকে জামিন দিয়েছেন আদালত। জামিনের আদেশে আদালত প্রাথমিক প্রমাণের ঘাটতি, এফআইআরে নাম না থাকা এবং সুনির্দিষ্ট অভিযোগের অভাবের বিষয়টি উল্লেখ করেছেন।
এদিকে তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হামলার সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন উসকানিমূলক পোস্ট ও ভিডিওও তদন্তের আওতায় রয়েছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে তথ্য বিনিময় এবং প্রযুক্তিগত সহায়তায় কিছু সীমাবদ্ধতার কথাও তারা উল্লেখ করেছেন।
অন্যদিকে ডিসমিসল্যাব ও দ্য ডেইলি স্টারের যৌথ বিশ্লেষণে দাবি করা হয়েছে, হামলাটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত। বিশ্লেষণে বলা হয়, ১৩ থেকে ১৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রকাশিত তিন হাজারের বেশি ফেসবুক পোস্ট বিশ্লেষণ করে অনলাইনে ছড়ানো উসকানি এবং বাস্তবে সংঘটিত হামলার মধ্যে স্পষ্ট যোগসূত্র পাওয়া গেছে। এতে আরও বলা হয়, দীর্ঘ সময় ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হামলার আহ্বান ও সহিংসতার প্রচার চললেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং প্ল্যাটফর্মগুলো কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়।
গণমাধ্যম-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠন ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানও এ হামলার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে। তাদের মতে, গণমাধ্যমের ওপর এ ধরনের হামলার বিচারহীনতা অব্যাহত থাকলে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা আরও ঝুঁকির মুখে পড়বে। �
