![]() |
| ছবি: সংগৃহীত |
স্ট্যাটাসে ওই প্রবাসী জানান, তিনি ২০২৫ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর বাড়ি থেকে সৌদি আরবের উদ্দেশে পাড়ি জমান। এরপর দেখতে দেখতে কেটে গেছে প্রায় ৯ মাস ২ সপ্তাহ। এর আগে কখনো পরিবারের সদস্যদের ছেড়ে এত দীর্ঘ সময় দূরে থাকতে হয়নি। প্রবাসজীবনের এই দীর্ঘ সময়ে নানামুখী দুঃখ-কষ্ট ও মানসিক চাপের মধ্য দিয়ে দিন পার করলেও তিনি নিজের কষ্ট কাউকে বুঝতে দেননি। সবসময় হাসিখুশি থাকার চেষ্টা করেছেন বলেও উল্লেখ করেন।
তিনি লেখেন, একপর্যায়ে এসে আর নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন না। তার ভাষায়, "ডিপ্রেশন কি একটা জিনিস, যা আমাকে তিলে তিলে শেষ করে দিচ্ছে। না পারছি কাউকে বোঝাতে, না পারছি কাউকে বলতে।"
আবেগঘন ওই স্ট্যাটাসে তিনি আরও উল্লেখ করেন, একজন ছেলের জীবনের দায়িত্ব, সংগ্রাম ও চাপ অন্য কেউ সহজে উপলব্ধি করতে পারেন না। সবকিছু মিলিয়ে নিজেকে মানসিকভাবে ভেঙে পড়া একজন মানুষ হিসেবে অনুভব করছেন বলেও জানান তিনি।
স্ট্যাটাসের শেষাংশে তিনি পরিচিত সবাইকে উদ্দেশ্য করে লেখেন, যদি কখনো কারও সঙ্গে কোনো ধরনের খারাপ ব্যবহার করে থাকেন, তাহলে যেন সবাই তাকে ক্ষমা করে দেন। পাশাপাশি "জীবনযুদ্ধে হেরে গেলাম" এবং "চোখ বন্ধ করলে সব শেষ"—এমন কথাও উল্লেখ করেন, যা তার মানসিক অবস্থার প্রতি উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
স্ট্যাটাসটি প্রকাশের পর পরিচিতজন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীরা মন্তব্যের মাধ্যমে তাকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান। অনেকেই তাকে সাহস জোগানোর পাশাপাশি পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতে এবং প্রয়োজন হলে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়ার অনুরোধ করেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন থাকা, অতিরিক্ত কর্মচাপ, আর্থিক দায়বদ্ধতা ও সামাজিক একাকীত্বের কারণে অনেক প্রবাসী মানসিক চাপে ভোগেন। সময়মতো পরিবার, বন্ধু কিংবা সহকর্মীদের মানসিক সহায়তা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা বা কাউন্সেলিং এ ধরনের সংকট মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
