মেয়েকে হত্যা করে বস্তাবন্দি, ৩৬ ঘণ্টায় রহস্য উদঘাটন

ভিক্টরি টাইমস ৭১

ছবি: সংগৃহীত 
খুলনা প্রতিনিধি: খুলনায় ১৬ বছর বয়সী কিশোরী আরফানা হোসেন নির্জনাকে হত্যার পর মরদেহ প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে সড়কে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে। মেয়ের প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে পারিবারিক বিরোধের জেরেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ঘটনার ৩৬ ঘণ্টার মধ্যেই হত্যার রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি)।


এ ঘটনায় নিহতের মা আরিফা ইয়াসমিন সিমা (৩৫) গ্রেপ্তার হয়েছেন। তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। অপর অভিযুক্ত বাবা মো. আলিম হোসেন আকাশকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।


শনিবার (১১ জুলাই) সকালে কেএমপি কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান এসব তথ্য জানান।


পুলিশ জানায়, গত ৮ জুলাই রাত প্রায় ৯টার দিকে খুলনা সদর থানার প্রান্তিকা আবাসিক এলাকার ৩ নম্বর সড়কে একটি প্লাস্টিকের বস্তার ভেতর অজ্ঞাতপরিচয় এক কিশোরীর মরদেহ পড়ে থাকার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে মরদেহ উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয় এবং হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শুরু হয়।


ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় পিবিআই, সিআইডিসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থার সহায়তায় নিহতের পরিচয় শনাক্তে অভিযান চালানো হয়। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিকটিমের ছবি প্রকাশ, বেতার বার্তা প্রচার এবং বিভিন্ন মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। পরিচয় নিশ্চিত না হওয়ায় ১০ জুলাই খুলনা সদর থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।


তদন্তের একপর্যায়ে নিহতের পরিচয় শনাক্ত হয়। তিনি সোনাডাঙ্গা থানার বসুপাড়া এলাকার বাসিন্দা আরফানা হোসেন নির্জনা। এরপর তার বাসায় গিয়ে মা আরিফা ইয়াসমিন সিমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে প্রথমে তিনি বিভ্রান্তিকর তথ্য দেন। পরে জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন বলে জানায় পুলিশ।


পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, মেয়ের বিভিন্ন ছেলের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে পরিবারে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। ঘটনার দিন এ বিষয়কে কেন্দ্র করে তর্ক-বিতর্কের একপর্যায়ে বাবা মো. আলিম হোসেন আকাশ লাঠি দিয়ে নির্জনার মাথায় কয়েকটি আঘাত করেন। এতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়। পরে বাবা-মা মিলে মরদেহ প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে খুলনা সদর থানার প্রান্তিকা আবাসিক এলাকার ৩ নম্বর সড়কে ফেলে রেখে ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ পুলিশের।


পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার হওয়া আরিফা ইয়াসমিন সিমা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন। পরে তিনি স্বেচ্ছায় আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এ ঘটনায় পলাতক বাবা মো. আলিম হোসেন আকাশকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Check Out
Ok, Go it!
To Top