![]() |
| ছবি: সংগৃহীত |
জুড়ি বড়লেখা প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার হাকালুকি হাওরে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়াকে কেন্দ্র করে সুজানগর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের এক কর্মীকে গ্রেপ্তারের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে বড়লেখা থানার পুলিশের বিরুদ্ধে ছাত্রলীগের নেতাকর্মী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের হয়রানির অভিযোগও সামনে এসেছে।
স্থানীয় সূত্র ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি সুজানগর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী হাকালুকি হাওরে ঘুরতে যান। সেখানে হাওরের ওয়াচ টাওয়ারে উঠে তারা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেন। এরপর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
এরই ধারাবাহিকতায় সুজানগর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের কর্মী শাকিলকে রাতের বেলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সংগঠনের নেতাকর্মীরা। তাদের দাবি, শুধুমাত্র হাওরে দাঁড়িয়ে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করেই তাকে আটক করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তীব্র নিন্দা, প্রতিবাদ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের বক্তব্য, রাজনৈতিক মতপ্রকাশের কারণে কাউকে গ্রেপ্তার করা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তারা শাকিলের দ্রুত ও নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে, বড়লেখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামানকে উদ্দেশ্য করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় অভিযোগ করা হয়েছে, পুলিশ সম্প্রতি ছাত্রলীগের বিভিন্ন নেতাকর্মীর বাড়িতে গিয়ে তল্লাশি চালাচ্ছে এবং পরিবারের সদস্যদেরও হয়রানি করছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব নিরপেক্ষভাবে পালন করা উচিত। কোনো রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে হয়রানি করা হলে তা জনমনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তারা পুলিশ প্রশাসনের প্রতি সংযত ও দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
তবে এ বিষয়ে বড়লেখা থানার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। শাকিলকে কোন মামলায় বা কী অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সে বিষয়েও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা জানা যায়নি।
এ ঘটনায় বিভিন্ন মহলে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এমন সংবেদনশীল বিষয়ে প্রকৃত তথ্য উদঘাটনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের স্বচ্ছ ব্যাখ্যা প্রয়োজন। একই সঙ্গে গ্রেপ্তারের কারণ, আইনি প্রক্রিয়া এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ারও দাবি উঠেছে।
উল্লেখ্য, এই প্রতিবেদনে উল্লিখিত গ্রেপ্তার ও হয়রানির বিষয়গুলো সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ ও দাবি অনুযায়ী তুলে ধরা হয়েছে। এ বিষয়ে পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে তা সংযুক্ত করে প্রতিবেদন হালনাগাদ করা হবে।
