![]() |
| ছবি : AI সংগৃহীত |
ঘটনাস্থলে প্রায় দেড় ঘণ্টা যানজটে আটকা পড়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন দেশের বিশিষ্ট শিল্পপতি ও ইস্ট কোস্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান আজম জে চৌধুরী। এ সময় তিনি গাড়ি থেকে নেমে প্রতিবাদ জানান এবং কুলাউড়া থানা পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে বলে জানা গেছে।
আজম জে চৌধুরী জানান, শনিবার তিনি নিজের গ্রামের বাড়ি কাদিপুর ইউনিয়নের হোসেনপুরে যাচ্ছিলেন। স্থানীয় মহতোছিন আলী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজসংলগ্ন পেকুরবাজার ত্রিমোহনী এলাকায় পৌঁছালে তাঁর গাড়ি যানজটে আটকা পড়ে। এ সময় তিনি দেখতে পান, শিববাড়ি মন্দিরে যাওয়ার পথে সড়কে বাঁশ দিয়ে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে যানবাহন থামিয়ে টাকা আদায় করা হচ্ছে।
তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সেখানে প্রায় দেড় শতাধিক যানবাহন আটকা পড়ে। এতে সড়কের উভয় পাশে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। প্রায় দেড় ঘণ্টা অপেক্ষার পর তিনি গাড়ি থেকে নেমে ঘটনার প্রতিবাদ করেন এবং পুলিশকে বিষয়টি জানান।
আজম জে চৌধুরীর দাবি, তাঁর প্রতিবাদের পর অর্থ আদায়ের সঙ্গে জড়িত কয়েকজন ব্যক্তি ঘটনাস্থল থেকে সরে যান। খবর পেয়ে কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ জহিরুল ইসলাম মুন্না ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
ঘটনার বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে আজম জে চৌধুরী বলেন, ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে যানবাহন আটকে অর্থ আদায় কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। উৎসবে আগত দর্শনার্থীদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করা প্রশাসনের দায়িত্ব। এ ধরনের অভিযোগ তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত এবং তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, সাধারণ মানুষের চলাচলের সড়ক কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর অর্থ আদায়ের জায়গা হতে পারে না। বিশেষ করে ধর্মীয় উৎসবের সময় দর্শনার্থীদের ভোগান্তিতে ফেলে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উদ্বেগজনক। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
কাদিপুরের ঐতিহ্যবাহী শিববাড়ি মন্দিরে দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক ভক্ত ও দর্শনার্থীর সমাগম ঘটে। এমন একটি ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে সড়কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি ও অর্থ আদায়ের অভিযোগ স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
তবে এ ঘটনায় কুলাউড়া উপজেলা ছাত্রদলের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে উপজেলা ছাত্রদলের বক্তব্য এবং পুলিশের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।
স্থানীয়দের দাবি, ধর্মীয় উৎসবের সময় সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা, দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অর্থ আদায়ের অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
