![]() |
| ছবি: সংগৃহীত |
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৫.৭ এবং এর উৎপত্তিস্থল ছিল নরসিংদীর মাধবদী এলাকায়, যা রাজধানী থেকে খুব বেশি দূরে নয়। ফলে ঢাকায় কম্পন ছিল অত্যন্ত তীব্র।
আহতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর রাত ৮টার পর হালনাগাদ তথ্য জানায়—
সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন ৬০৬ জন,
এদের মধ্যে ১৬৭ জনকে ভর্তি রাখতে হয়েছে,
১৬ জনকে গুরুতর অবস্থায় অন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর তথ্য এখনও সম্পূর্ণ সংগ্রহ করা হয়নি। অনেক আহত নিজ উদ্যোগে চিকিৎসা নিয়েছেন, তাই আহতের প্রকৃত সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে।
নরসিংদীতে সর্বাধিক প্রাণহানি: একই পরিবারের বাবা-ছেলেসহ নিহত ৫
ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থলে নরসিংদী সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বেশ কয়েকটি ভবনের অংশবিশেষ ধসে পড়ে এবং ঘর-বাড়ি কেঁপে ওঠায় আতঙ্কে ছুটোছুটি করতে গিয়ে প্রাণহানি ঘটে।
নিহতদের পরিচয়
১. দেলোয়ার হোসেন (৩৭) – গাবতলী এলাকার বাসিন্দা
২. ওমর ফারুক (১১) – দেলোয়ারের সন্তান
৩. কাজম আলী ভূঁইয়া (৭৫) – মালিতা পশ্চিমপাড়া
৪. নাসির উদ্দিন (৬৫) – পলাশের ডাঙ্গা কাজিরচর এলাকা
৫. ফোরকান (৪০) – শিবপুরের আজকিতলা গ্রাম
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, কিছু ঘরের দেয়াল ও টিনের চাল ভেঙে পড়ে এবং বহু মানুষ আতঙ্কে ঘর থেকে বের হওয়ার সময় আহত হন।
রাজধানী ঢাকায় ধস ও রেলিং ভেঙে ৪ জনের মৃত্যু
ঢাকায় পুরান ঢাকার বংশাল এলাকায় একটি পাঁচতলা ভবনের রেলিং ও দেয়ালের অংশ হঠাৎ ভেঙে নিচে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনজন। এছাড়া মুগদায় নির্মাণাধীন একটি ভবনের রেলিং ছিটকে পড়ে নিহত হন একজন নিরাপত্তাকর্মী।
বংশালে নিহত ৩ জন
রাফিউল ইসলাম – সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী
হাজী আব্দুর রহিম (47)
মেহরাব হোসেন রিমন (12)
বংশাল থানার ওসি রফিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
মুগদায় নিহত নিরাপত্তাকর্মী
মো. মাকসুদ (৫০)
নোয়াখালীর রামগতি থানার বাসিন্দা ছিলেন তিনি। ভবনের পঞ্চম তলার রেলিং নিচে পড়ে তার মৃত্যু হয়।
নারায়ণগঞ্জে টিনসেড ঘর ধসে শিশু নিহত
রূপগঞ্জের গোলাকান্দাইল ইউনিয়নে ভূমিকম্পের সময় একটি টিনসেড বাড়ির দেয়াল ভেঙে পড়ে ফাতেমা নামে এক বছরের শিশুর মৃত্যু হয়। আহত হন শিশুটির মা কুলসুম বেগম এবং প্রতিবেশী জেসমিন বেগম।
অতর্কিত কম্পনে দেশের সর্বত্র আতঙ্ক
অধিকাংশ মানুষ জানান, ভবন তীব্রভাবে দুলতে শুরু করলে সবাই সিঁড়ি ও বারান্দায় ছুটতে থাকেন। অনেক জায়গায় লিফটে আটকে পড়ার ঘটনাও ঘটে। বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি ভবনে তাৎক্ষণিকভাবে সবাইকে বাইরে বের হয়ে আসতে দেখা যায়।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, অফিস, শপিংমলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ লাইন সাময়িক বিচ্ছিন্ন হওয়ায় আরও ভয় তৈরি হয়।
বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মধ্যম মাত্রার হলেও ভূমিকম্পটির উৎপত্তি ভূপৃষ্ঠের খুব কাছাকাছি হওয়ায় তা ঢাকায় তীব্রভাবে অনুভূত হয়েছে। তারা ভবনগুলোতে ঝুঁকি নিরূপণ ও প্রয়োজনীয় পুনর্গঠন করার আহ্বান জানিয়েছেন।

