![]() |
| ছবি সংগৃহীত |
পুলিশ জানায়, তিনি ৩.১০-এর ক্লাস থেকে বের হয়ে ছাদে গিয়েছিলেন। ফুটেজে দেখা গেছে, তার আশেপাশে তখন কেউ উপস্থিত ছিলেন না। ভবনের ছাদ সর্বদা উম্মুক্ত অবস্থায় থাকে। প্রাথমিক সুরতহাল পর্যবেক্ষণে জানা গেছে, তার বাম পা বিভিন্ন স্থানে ভেঙে গেছে, যা বাইরে থেকে সহজে বোঝা যাচ্ছিল না। পড়ার স্থানটি প্রায় ৩–৪ ইঞ্চি মাটি ঢেকে দিয়েছে, যা নির্দেশ করে, তিনি উচ্চ স্থান থেকে পড়েছেন। মুশফিকের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে।
একাধিক সহপাঠীর অভিযোগে উঠে এসেছে, মুশফিককে নিয়মিত বডি শেমিং করা হতো। তার শরীর, গায়ের রঙ এবং কণ্ঠের কারণে তাকে নিয়ে হাসাহাসি হতো। এমনকি ঘটনার দিন ক্লাস শুরুর আগে বা শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি রুম থেকে বেরিয়ে গিয়েছিলেন। বন্ধুরা বলছেন, তিনি ছিলেন অত্যন্ত ইমোশনাল ও সহজ সরল।
মুশফিক একজন মেধাবী ছাত্র, স্বপ্ন ছিল বিসিএস ক্যাডার হওয়ার। বন্ধুরা জানাচ্ছেন, তিনি কঠোর পরিশ্রমী ও পড়াশোনায় মনোযোগী ছিলেন এবং তার স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর, এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে শতভাগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে হবে। সত্য প্রমাণিত হলে, যারা এই বুলিংয়ে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় সহপাঠীরা জানিয়েছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সহানুভূতিশীল, নিরাপদ এবং সম্মানজনক পরিবেশ নিশ্চিত করা উচিত। মুশফিকের আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনা সামাজিক সচেতনতার দিক থেকে এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে দ্রুত স্টেটমেন্ট প্রকাশ করে এই ঘটনার তদন্তের অগ্রগতি জানাতে বলা হচ্ছে, যাতে শিক্ষার্থী ও সমাজের আস্থা বজায় থাকে।

