||
সত্য প্রকাশে
আপোষহীন
ভিক্টরি টাইমস ৭১ www.victorytimes71.com

জামায়াত নেতার ধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা বিধবা নারী, গর্ভে থাকা সন্তানকেও হত্যা

ভিক্টরি টাইমস ৭১

ছবি: সংগৃহীত 
পটুয়াখালী প্রতিনিধি: পটুয়াখালী সদর উপজেলা যুব জামায়াতের সভাপতি মো. শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে এক বিধবা নারীকে ধর্ষণ এবং পরবর্তীতে তার গর্ভের সন্তান নষ্ট করার অভিযোগে আদালতে মামলা হয়েছে। মামলার পর থেকে অভিযুক্ত শহিদুল ইসলাম পলাতক রয়েছেন বলে বাদীপক্ষের দাবি।


মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাতে বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. হুমায়ুন কবির গণমাধ্যমকে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।এর আগে ২২ জুলাই পটুয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে ওই নারী বাদী হয়ে মামলাটি করেন। মামলায় একমাত্র আসামি করা হয়েছে শহিদুল ইসলামকে। আদালতের বিচারক শিরিন নিলা মামলাটি আমলে নিয়ে পটুয়াখালী সদর থানাকে এজাহার হিসেবে গ্রহণ করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।


অভিযুক্ত শহিদুল ইসলাম পটুয়াখালী সদর উপজেলার ইটবাড়িয়া ইউনিয়নের বানিয়াকাঠী গ্রামের বাসিন্দা। তিনি সদর উপজেলা যুব জামায়াতের সভাপতি এবং পটুয়াখালী ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের দপ্তর সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।


মামলার অভিযোগে ওই নারী বলেন, প্রায় সাত বছর আগে তার স্বামী মারা যান। এরপর একমাত্র সন্তানকে নিয়ে তিনি বাবার বাড়িতে বসবাস শুরু করেন। সেখানে পরিচয়ের পর শহিদুল ইসলাম তাকে বিভিন্ন সময় বিয়ের প্রস্তাব দেন। একপর্যায়ে বিয়েতে রাজি হলে শহিদুলের বোনের সঙ্গে দেখা করানোর কথা বলে তাকে পটুয়াখালী শহরে নিয়ে যাওয়া হয়।


বাদীর অভিযোগ, গত ২৪ মার্চ সকালে শেরে বাংলা সড়কে শহিদুলের বোনের বাসায় যাওয়ার পর একটি কক্ষে তাকে আটকে রেখে ধর্ষণ করা হয়। পরে ভয়ভীতি দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণের ফলে তিনি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।


অভিযোগে আরও বলা হয়, গর্ভের সন্তান নষ্ট করতে ওই নারীকে চাপ দেওয়া হলেও তিনি এতে রাজি হননি। পরে গত ১৮ মে চিকিৎসা করানোর কথা বলে তাকে একটি ক্লিনিকে নেওয়া হয়। সেখানে তাকে ওষুধ খাওয়ানো হয়। ওই ওষুধ সেবনের পর তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং পরদিন জ্ঞান ফেরার পর জানতে পারেন, তার গর্ভের সন্তান নষ্ট হয়ে গেছে।


বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. হুমায়ুন কবির বলেন, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ওই নারীকে পটুয়াখালী শহরে নিয়ে যাওয়ার পর ভয়ভীতি দেখিয়ে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। আদালত মামলাটি গ্রহণ করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছেন।


এ বিষয়ে পটুয়াখালী জেলা জামায়াতের আমির নাজমুল আহসান বলেন, শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে। বিষয়টি আদালতের বিচারাধীন হওয়ায় এ মুহূর্তে তার কিছু বলার নেই। আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান জানান, আদালতের আদেশের কপি এখনো থানায় পৌঁছায়নি। আদেশের কপি হাতে পাওয়ার পর আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Check Out
Ok, Go it!
To Top